রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নতুন ভবনে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে মার্কেটে তালা দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। গতকাল বুধবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মার্কেটটির সামনে ব্যবসায়ীদের অবস্থান ও পুলিশের উপস্থিতিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল বিকেল পর্যন্ত। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে মোহাম্মাদপুর থানা-পুলিশ।
মার্কেটটির ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আসাদ বলেন, বাজারের নামধারী সেক্রেটারি-সভাপতি বহিরাগতদের নিয়ে মার্কেটে আক্রমণ চালিয়েছেন। তারা মার্কেটের সব দোকান বন্ধ করতে বলেছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। চাঁদা দাবি করছিল, কিন্তু চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তারা মার্কেট বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা মার্কেটের সামনে অবস্থান করে। প্রশাসনের লোকও আসেন। তারা (প্রশাসন) দুই পক্ষকে (চাঁদা দাবি করা পক্ষ এবং মার্কেটের ব্যবসায়ীরা) বলছে থানায় গিয়ে বসার জন্য। বাহিরাগতদের সঙ্গে বসার কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি আরও বলেন, এই মার্কেটটিতে তিন ব্লক মিলিয়ে মোট ৪২৭টা দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রানিং দোকান আছে ৩০০-এর মতো। তারা (চাঁদাবাজ) প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ৭০-৮০ টাকা চাঁদা চাইছে। আবার অবৈধভাবে বিদ্যুৎ বিল দাবি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, চাঁদা না দেওয়ায় ওয়ার্ড বিএনপির লোকজন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নতুন ভবনের দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে। এর প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক করে ফেলছে কিছু মানুষ। চাঁদা না দিলে দোকান খোলা যাবে না। ব্যবসা করা যাবে না। এটা স্বাধীন দেশের কোনো কথা হলো। একটা দোসর শেষ হলো, এখন আরেকটা দোসর হাজির হয়েছে। এ ছাড়াও বিক্ষোভে নানা প্রতিবাদী সেøাগান দেন ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আব্দুল আলিম বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আমাদের একাধিক টিম পাঠাই। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ঘটনায় মার্কেটের সামনে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। দুই পক্ষকে (চাঁদা দাবি করা পক্ষ এবং মার্কেটের ব্যবসায়ীরা) থানায় গিয়ে বসার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
