উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৬ এএম

রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুরে তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় সড়ক সেতুর পশ্চিম তীরের সুরক্ষা বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে পানির প্রবল স্রোত আর ক্ষিপ্ত শব্দে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে লালমনিরহাট–রংপুর সড়কসহ আশপাশের এক হাজারের বেশি পরিবারের জন্য।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দেখা যায়, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি তিস্তার পানিপ্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র স্রোতের ধাক্কায় প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ পশ্চিম তীরের বাঁধের মাটি ধুয়ে যাচ্ছে, ব্লকগুলো একের পর এক নেমে যাচ্ছে পানির তলায়।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গিয়ে সেতু ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে, যা রংপুর–লালমনিরহাটের যোগাযোগ সহজ করেছে। কিন্তু বর্তমান ভাঙন নিয়ন্ত্রণে না এলে সেতু ও সংলগ্ন সড়ক বড় বিপদের মুখে পড়বে।

তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তীরবর্তী চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা, মর্ণেয়া, বালাপাড়া, টেপামধুপুর ও ছাওলা ইউনিয়নের অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যার ভয়ে বহু মানুষ উঁচু স্থানে বা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘বন্যায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেবসহ আশপাশের এলাকায় গত কয়েক দিনে নদীভাঙনে শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে। শুধু শিবদেব গ্রামেই সাম্প্রতিক ভাঙনে অন্তত ৫০টি বাড়ি, একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে, কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী ভাঙনরোধ ব্যবস্থা জরুরি, নইলে প্রতিবছর একই দুর্যোগের মুখে পড়তে হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা অববাহিকার নদনদী সতর্ক সীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে, আর পদ্মা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার পঞ্চগড়ে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উজানে ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবারও রংপুর বিভাগ ও তিস্তার উজানে দিনভর বৃষ্টি হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত