ধানমন্ডি ৩২-এ ছিল সতর্কতা, আ.লীগ সন্দেহ হলেই ধাওয়া

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নেই কোনো আয়োজন। তবে এই এলাকায় নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। একইভাবে স্থানীয় বিএনপি ও এর সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানেও থাকেন। সেখান থেকে বিভিন্ন সেøাগানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থক দেখলে ধাওয়া দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া সাউন্ড বক্সে ‘কিলার হাসিনা’, ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ তুমি’, এ রকম বিভিন্ন গান বাজানো ও ডিজিটাল স্ক্রিনে হিন্দি গানের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসিয়ে সড়কের দুই দিক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কেবল গণমাধ্যমকর্মীদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়ির সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক পাহারায় ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে শেরেবাংলা নগর থেকে ফুল নিয়ে আসা এক নারীকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ। হালিমা নামে ওই নারী নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী দাবি করে বলেন, শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। তবে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা ঘিরে ধরলে পুলিশ দ্রুত তাকে রিকশায় এলাকা ত্যাগ করতে সহায়তা করে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারীসহ আরও অন্তত ১৫ জন শুক্রবার সকালে শোক জানাতে এসেছিলেন। তাদের কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লালমাটিয়া থানা ছাত্রদলের সদস্য তামজিদ ইসলাম বলেন, এক নারী ভাইরাল হওয়ার জন্য এসেছেন। আওয়ামী লীগের সত্যিকার কর্মী হলে তিনি আসতেন না। দলটির বড় নেতারাও পালিয়ে আছেন। ওই নারী বারবার বলছিলেন, হাসিনা খুন করেননি। তখনই উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ওই নারীকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন বলেন, একজন নারী এসেছেন ফুল দেওয়ার জন্য। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তাকে চলে যেতে বলি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

এদিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জনরোষের গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন আজিজুর নামের এক রিকশাচালক। ওই ফুলের তোড়ার ওপর লেখা ছিল, ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাধারণ রিকশাওয়ালা হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে শ্রদ্ধা জানাতে নিজের সৎ উপার্জনের টাকা দিয়ে ফুল কিনে এসেছি। আমি কোনো দল করি না। শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবাসি।

গতকাল সকাল থেকে এক দম্পতিসহ চারজন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। এর মধ্যে সকাল সোয়া ৯টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সড়কের পশ্চিম পাশে তিন সন্তানসহ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন এক দম্পতি। তখন তারা স্থানীয় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েন। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

ওই দম্পতি পিরোজপুর থেকে এক মাস আগে ঢাকায় এসেছেন বলে জানা গেছে। ঢাকায় জুতার ব্যবসা করা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাই তারা শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা গুলশান থানা ছাত্রদলের কর্মী তানজীব বলেন, ধানম-িতে মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে এবং আওয়ামী লীগের লোকজন যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি আমরা এখানে আছি। দু-একজন আওয়ামী লীগের লোক এসেছিল, আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর প্রবেশপথ থেকে অন্তত সাতজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে কেউ ফেসবুকে লাইভ করছিলেন, আবার কেউ আওয়ামী লীগের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হক বলেন, কেউ যাতে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি বা নাশকতা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনও ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত