সাড়ে ৫ মাস পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আসছে ভারতের পেয়াঁজ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৯ পিএম

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আমদানির অনুমতি দেওয়ায় দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস পর আবারও ভারত থেকে আসছে পেঁয়াজ। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রবিবার পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলেও জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

রবিবার বিকেল পৌনে ৪টায় পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে। নওগার জগদিশ চন্দ্র রায় ৩০টন পেঁয়াজ আমদানি করেন। এতে করে বন্দরে আমদানিকারক ও শ্রমিকদের মাঝে কর্মস্পৃহা ফিরতে শুরু করেছে। পরবর্তীতে সততা বাণিজ্যালয় নামের হিলি স্থলবন্দরের অপর এক আমদানিকারকের আরেকটি ২৯টন পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুই ট্রাকে ৫৯টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

বন্দরে পেঁয়াজ খালাসের দায়ীত্বে নিয়োজিত সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নওগার জগদীশ চন্দ্র রায় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আজ ৩০টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। এরপর ব্যাংকে এলসি খুলে আজকেই বন্দর দিয়ে ৩০টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। বন্দর থেকে সেই পেঁয়াজ খালাসের জন্য বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে সকল প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। দ্রুত সেসব প্রক্রিয়া শেষ হলে তা খালাস করে আমদানিকারকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে বাজারজাত করার জন্য।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় আজ বিকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে। তবে ৩০টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় এলসিকরাসহ অন্য খরচ বাড়তি লাগাছে এর ফলে আমদানি খরচ বাড়বে। এতে করে দেশের বাজারে কমানোর স্বার্থে আমদানির অনুমতি দিলেও তা তেমন কাজে লাগবেনা। তাই পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। এতে করে আমদানিকারকরা যে পরিমাণ চাহিদা সেই পরিমাণে আমদানি করতে পারবেন। তাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছেন। আমদানিকারকের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে তা দ্রুত পরিক্ষা নীরিক্ষা করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এরপর তারা বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস নিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩ মার্চ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি সম্পূর্ণরুপে বন্ধ ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত