ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহ তদন্তকালীন সময়ের এন্টিসিপেটরী বেল নিয়েছিলেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করীম মিলন (৫০)। এর আগে গত ১৮ মে নির্যাতিত ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা করেন।
ওই মামলায় ২৬ মে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালত থেকে এন্টিসিপেটরী বেল নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ছুমিয়া খানমের আদালত থেকে তদন্তকালীন সময়ের জন্য অন্তবর্তীকালিন জামিনে ছিলেন। আদালতের শর্তানুযারয়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়ায় মামলা সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে স্বাভাবিক জামিন প্রাপ্তির জন্য আদালতে হাজির হয়েছিলেন শিক্ষক রেজাউল করীম মিলন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট উপসহকারী পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘কুমারখালী থানার একটি যৌন নিপীড়ন মামলায় উপজেলার যদুবয়রা ‘চৌড়ঙ্গী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করীম মিলন (৫০) ফ্রস জামিন প্রার্থনা করে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমারখালী উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের চৌরঙ্গী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্বপাড়া ভালুকা গ্রামের বাসিন্দা শেখ সদর উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করীমের লাইব্রেরী কক্ষে বিদ্যলয়ের ৬ শ্রেণির ছাত্রীকে (১৩) ডেকে নিয়ে একা পেয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শসহ নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটি চরমভাবে ভীত হয়ে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ্যবোধ করে। তাকে মানসিক ভাবে বিমর্ষ দেখে তারে মা কারণ জানতে চায়। তখন শিশুটি আর ওই স্কুলে যাবেন না বলে জানিয়ে দেয় বাড়িতে। এর কারণ জানতে চাওয়ায় শিশুটি পরিবারের কাছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের বর্ণনা দেয়।
এঘটনা শোনার পর সনাতন ধর্মাবলম্বী ওই পরিবাবারের পিতার অবর্তমানে অভিভাবক হিসেবে ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বাদি হয়ে প্রধান শিক্ষককে একমাত্র এজাহার নামীয় আসামি করে মামলাটি করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন খান বলেন, গত সপ্তাহেই আমি স্কুল ছাত্রী যৌন নিপীড়নের মামলাটির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছি আদালতে। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন বিচার করবেন বিজ্ঞ আদালত।
