খুলনার রূপসায় কৃষি ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৪৯৬ টাকা লুটের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউনূস শেখকে আটক করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার কাছ থেকে চুরির দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ইউনূস উপজেলার নিকলাপুর গ্রামের ইনছান শেখের ছেলে। তবে পুলিশের দাবি ইউনূস শেখই এঘটনার মুলহোতা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ’এ’ সার্কেল মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইউনূসকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশের একটি দল ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত লুট হওয়া সব টাকা উদ্ধার করা যায়নি। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার ভোরে ইউনূসকে রূপসা কৃষি ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আটক করে পুলিশ।
তিনি কৃষি ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। এছাড়া একই ভবনের নিচতলায় তার একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। তদন্তে প্রমাণ মিলেছে এই চুরির ঘটনাটি ইউনূস একাই ঘটিয়েছে। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ইউনূস পেশায় একজন লেদ মিস্ত্রি। ট্রাকের যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতেন তিনি। লোহা কাটার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি ব্যাংকের ভল্ট ও তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। শুক্রবার ভোরে ব্যাংকে কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আরও তথ্য জানা এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইউনূস শেখের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ইউনুস মোটা অংকের ঋণের টাকার চাপে ছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি চুরি করা টাকা থেকে কিছু ঋণ পরিশোধও করেছেন।
এদিকে ব্যাংক লুটের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ আজ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় অফিসের ডিজিএম আসলাম হোসেন, এজিএম মশিউর রহমান ও এজিএম হামিম শেখ।
কৃষি ব্যাংক খুলনার উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
