বগুড়ার কাহালুর আব্দুল মতিন ইকো ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী। ছোট্ট একটি দোকান থেকে এখন একটি সফল ফার্নিচারের ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। জানিয়েছেন তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
আমি ব্যবসা শুরু করার আগে যে চাকরি করতাম সেটাও মূলত একটা ফার্নিচারের দোকানেই ছিল। সেই ফার্নিচার দোকানের মালিক ছিলেন মো. হাবিল মিয়া। তিনিই মূলত আমাকে ব্যবসা শুরু করার অনুপ্রেরণা দেন। তার অনেক দিনের উৎসাহের কারণেই আমার এলাকায় এসে ২০১৩ সালে ইকো ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসা শুরু হওয়ার পরে আমি অনেক ভয় পাচ্ছিলাম কেননা আমি মাত্র ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি। পড়াশুনা তেমন একটা জানি না। তাই আমি নিজের প্রতি সে আস্থা পাচ্ছিলাম না যে আমি নিজের কোনো ব্যবসা সফলভাবে দাঁড় করাতে পারব কি না। কিন্তু আমার বড়ভাই, আবদুল গাফফার আমার ব্যবসার সব পর্যায়ে আমার সঙ্গে থেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তার এই অভাবনীয় অবদানের কোনো তুলনা হয় না। কিন্তু দুঃখের বিষয় কয়েক বছর আগে তিনি মারা যান। তার পর থেকে নিজের হাতেই সব কাজ করতে হচ্ছে। এভাবেই আমি আমার ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি।
যদিও আমার ব্যবসা ভালোভাবেই চলছে, কিন্তু তার মানে এই না যে আমাকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। প্রতিনিয়তই আর্থিক সমস্যা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন লেনদেন পর্যন্ত, কোনো না কোনো অসুবিধা লেগেই থাকে। এই ব্যবসায় কর্মী সংকট অনেক থাকে। কিন্তু এসবও সব ব্যবসাতেই কমবেশি থাকে। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা আমার আজ পর্যন্ত দেখতে হয়েছে তা হলো প্রায় ২ বছর ধরে থাকা করোনা মহামারী। আমার ফ্যাক্টরি অনেক মাস ধরে বন্ধ রাখতে হয়েছিল কিন্তু ভাড়া পুরোটাই দিতে হয়েছিল। তার ওপরে ইউটিলিটি বিল যোগ হয়েছিল এবং আমাকে আমার কর্মচারীদের বেতনও পরিশোধ করতে হয়েছিল যদিও কোনো উপার্জনের উৎস ছিল না সে সময়। যাইহোক, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আমার ব্যবসাও আবার নতুন করে শুরু হয়েছিল।
সুইস কন্টাক্ট ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের বদৌলতে আমি নিজের পুরনো ব্যবসাকে নতুন করে গড়ে তোলার ব্যাপারে সোচ্চার হতে পেরেছি। তাদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি অসাধারণ ছিল এবং আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি তাদের কাছ থেকে। বিশেষ করে বিপণনে যে আরও নতুনত্ব আনা সম্ভব তা উপলব্ধি করতে পেরেছি। তাই এখন আমার ব্যবসার জন্য আলাদা একটি ফেসবুক পেজ আছে এবং সেখানে আমার অনেক পণ্য তালিকা আকারে সাজানো আছে। এর কারণে অনেক গ্রাহক আমার ব্যবসার ব্যাপারে জানতে পারছে। আমি সেজন্য আমার ব্যবসাকে আরও বড় করার চিন্তা করছি।
আমার জীবনের মূল লক্ষ্য হলো আমার ব্যবসাকে এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে আমি আমার পণ্যের গুণমান বজায় রাখতে পারি এবং তা করার সময় আমার ব্যবসা, আমার কর্মচারী এবং আমার গ্রাহকদের প্রতি সৎ থাকতে পারি। সৃষ্টিকর্তা আমার সহায় হন, তাহলে আমি ব্যবসা আরও বাড়াতে চাই এবং আরও ভালো মানের আসবাবপত্র তৈরি করতে চাই। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারাটাও আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বপ্নের কথা যদি বলতে হয় আমি আমার প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফার্নিচারকে আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করতে চাই।
