মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ব্যস্ত সীমান্ত দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো বাণিজ্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জান্তা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর অর্থায়নে সহায়ক কালোবাজার বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তা মিয়ানমারের মিয়াওয়াডি সেতু নিয়ন্ত্রণ করছে। থাই শুল্ক বিভাগের তথ্যানুসারে এ সেতু দিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে প্রতি মাসে ১২০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। দেশটির বর্ডার গার্ড ফোর্সেসের মুখপাত্র নাইং মৌং জাও বলেছেন, সোমবার থেকে বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে। সামরিক জান্তা জানিয়েছে, তারা ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে অবৈধ বাণিজ্যকে কঠোরভাবে দমন করবে। এ নির্বাচন দেশটিতে সেনা শাসন আবার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি এই সীমান্ত থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়ে সেনারা বিভিন্ন গেরিলা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, যারা লাভজনক টোল গেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে অবস্থানরত থাই নিরাপত্তা সূত্র জানায়, জান্তা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর জন্য অস্বস্তিকর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যাতে তাদের আয় বা সুবিধা বন্ধ করা যায়। সামরিক জান্তা গত সোমবার সীমান্ত বন্ধ করার সময় জানায়, তারা ডিসেম্বরের শেষের দিকে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে, যা গৃহযুদ্ধের একটি সমাপ্তির পথ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লেইং গত সপ্তাহে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা সীমান্তে অবস্থান করা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচি এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তার দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং অপসারিত আইনপ্রণেতারা নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। সামরিক জান্তা নির্বাচনে প্রতিবাদকারী বা সমালোচকদের জন্য নতুন কঠোর আইন প্রবর্তন করেছে, যার মাধ্যমে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে সে আইনে।
