সীমান্ত বৈঠকে প্রাধান্য পাবে হত্যা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৯ এএম

ভারতের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই ঢাকায় আজ সোমবার শুরু হচ্ছে বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনের সম্মেলন। আলোচনায় গুরুত্ব পাবে পুশইন, সীমান্ত হত্যা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ।

ঢাকার বিজিবি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন বিএসএফ মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে থাকবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বিএসএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা আলোচনায় সীমান্ত অপরাধ দমন, বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বারা বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা প্রতিরোধ এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে প্রাধান্য দেবে। পাশাপাশি তারা দাবি তুলবে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ভারতীয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

অন্যদিকে বিজিবি পুশইন ও সীমান্ত হত্যার বিষয়টিকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে তুলতে চায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেছেন, “এই সম্মেলনে বিজিবি দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ভারত থেকে ২৪টি সীমান্ত জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ২ হাজার ১৯৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট সীমান্ত দিয়ে সর্বোচ্চ ৫৭৫ জন এবং মৌলভীবাজার দিয়ে ২৫৪ জনকে ঠেলে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে জাতিসংঘে নিবন্ধিত অন্তত ৩৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখানে গত শুক্রবার বৈধ ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে ছয় ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকদের মধ্যে দিল্লির দানেশ ও তার গর্ভবতী স্ত্রী সোনালী খাতুন ছিলেন, সঙ্গে ছিল তাদের আট বছরের শিশু। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সুইটি বিবি ও তার দুই ছেলে আটক হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, ভারতীয় পুলিশ তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে বিএসএফের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ঠেলে দেয়। পরে তারা ঘুরতে ঘুরতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে গ্রেপ্তার হন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ১৭ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে নিহত হয়েছিলেন ১৬ জন। শুধু ২০২৪ সালেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। যদিও ভারত আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সীমান্তে প্রাণহানি কমাতে তারা সংযম দেখাবে।

বিজিবি আরও তুলবে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ, নদী ভাঙন রোধ, যৌথ নদীর ন্যায্য পানি বণ্টন ও ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা সংক্রান্ত বিষয়।

বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন চলছে প্রায় পাঁচ দশক ধরে। ১৯৭৫ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতায় প্রথম এ বৈঠক হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক অশ্বিনী কুমার এবং বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস প্রধান মেজর জেনারেল কাজী গোলাম দস্তগীর।

এরপর থেকে সীমান্ত বিরোধ সমাধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম হিসেবে এই বৈঠক দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত