ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। প্রার্থীরা আজ থেকে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের আচরণবিধি বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী/পক্ষ নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ক্যাম্পাসে এবং আবাসিক হলে ২৬ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যক্তি অথবা সাংগঠনিক পরিচয়ে প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারবে।’
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গতকাল দুপুরে সিনেট ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেজর কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। এমনটি যেন ভবিষ্যতেও না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে চিফ রিটার্নিং অফিসার ও তার টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসমতা দেখা দিলে, লিখিতভাবে জানালে আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। মঙ্গলবার থেকে নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্ড দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে : ভোট প্রদানে জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্ড দেখিয়ে ভোট প্রদান করা যাবে বলে জানিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোট প্রদানে জটিলতা এড়াতে হলে হল কার্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড অথবা পে-ইন সিøপ দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে।
উমামা ফাতেমার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ফেসবুকে ক্ষমা প্রার্থনা : ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে আচরণবিধি ভঙ্গ করে মধ্যরাতে অবস্থান করে প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাসংক্রান্ত কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। হল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এক হলের নারী শিক্ষার্থী অন্য হলে রাত ১০টার পর প্রবেশ করতে পারে না।
পরে বিষয়টি কেন্দ্র করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, আমি নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে প্রবেশ করেছি তাই হল প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি গতকাল (রবিবার) কোনো নির্বাচনী প্রচার বা মিটিং করতে যাইনি। দীর্ঘদিনের মানসিক ধকলের কারণে মেন্টাল রিলিফের জন্য বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি হলগেট বন্ধ হওয়ার আগেই হলে প্রবেশ করি। তাই রাত দেড়টায় আসার ব্যাপারে যে ভুয়া খবরটি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি ভোট চেয়েছি।’
ছাত্রলীগের রাজনৈতিক অধিকার নেই আবিদুল ইসলাম : ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিচার যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, ততক্ষণ এদের বাঁচার অধিকার আছে, খাদ্য ও বাসস্থানের অধিকার আছে কিন্তু এদের রাজনৈতিক অধিকার তো আপনারা (ঢাবি প্রশাসন) দিতে পারেন না। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফজলুল হক মুসলিম হলের এজিএস প্রার্থী তোফাজ্জল হত্যা মামলার আসামি, এজিএস রাকিবুল রিয়াদ ও জিএস এনামুল হাসান ও মমিনুল ইসলাম ২০২২ সালে ছাত্রদলের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং ছাত্রলীগের পোস্টেড ছিল, বিজয় একাত্তর হলের এজিএস প্রার্থী তানিম শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছিল, জগন্নাথ হলের স্বপন রায় ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ছিল। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারকে আমরা প্রশ্ন করছি।’
উমামা ফাতেমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হবে। কিন্তু গতকাল রাত ১টা ১৩ মিনিটে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রচারণা চালিয়েছেন। যদিও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু একটি ঘটনা ঘটিয়ে পরে ক্ষমা চাইলে অন্যরা একই সুযোগ নেবে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
