জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আরও পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। গতকাল সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের অষ্টম কার্যদিবসে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সাক্ষীরা হলেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী, একই হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা, জুলাই আন্দোলনে শহীদ মারুফ হোসেনের বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের মা হোসনে আরা বেগম। এ নিয়ে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আজ মঙ্গলবার একই মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। ২১তম সাক্ষী ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা জবানবন্দিতে বলেন, জুলাই গণঅভ্যূত্থানে আহত হয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেওয়া ১১ জন দুই চোখের এবং ৪৯৩ জন এক চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারিয়েছেন। আহত ২৮ জন দুই চোখে গুরুতর দৃষ্টি এবং ৪৭ জন এক চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন। আর ৪৩ জন এক চোখে সাধারণ দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন। রোগীদের আহত হওয়ার ধরন নিয়ে তিনি বলেন, চোখের কর্নিয়া ও সাদা অংশ ছিদ্র হয়ে যাওয়া, চোখ ফেটে যাওয়া, চোখের রেটিনা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া ও চোখে রক্তক্ষরণ ছিল।
জবানবন্দি শেষে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমীর হোসেন। প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম। গত ৩ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১৩টি ভলিউমে সাড়ে আট হাজার পৃষ্ঠার নথি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। যাতে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। এরপর ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করলে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
