তৌহিদ আফ্রিদি ও নাসির উদ্দীনের গ্রেপ্তার ‘মবের চাপ’: ভিপি নুর

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:১৪ পিএম

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘মাই টিভি’-এর চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথী ও তাঁর ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করিয়েছেন। তিনি এ ঘটনাকে ‘জনকণ্ঠ দখলের পুনরাবৃত্তি’ বলে দাবি করেছেন।

গত রবিবার দিবাগত রাত ১টা ৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নুরুল হক নুর এ বক্তব্য দেন।

সেই পোস্টে তিনি লেখেন, অনেক দিন ধরে নগদ ৫ কোটি টাকা বা শেয়ার লিখে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। সমঝোতা না হওয়ায় ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল মব ব্যবহার করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শেষ পর্যন্ত তৌহিদ আফ্রিদি ও তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।

নুর প্রশ্ন তোলেন, ‘আচ্ছা, এই যে তৌহিদ আফ্রিদি ও তাঁর বাবাকে যাত্রাবাড়ী থানার ‘ছাত্র হত্যা’ মামলায় এক বছর পর গ্রেপ্তার করা হলো, মামলার বাদী কি জানেন কাদের আসামি করা হয়েছিল? আফ্রিদি কিংবা তাঁর বাবা ‘ছাত্র হত্যা’ করেছেন—এটা কি প্রমাণ করা সম্ভব? তাহলে কেন এই নাটক?’

তিনি আরও লিখেছেন, যদি আফ্রিদি আওয়ামী লীগের হয়ে কিছু করে থাকেন, তবে নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দেওয়া যেত। কিন্তু তা না করে যাত্রাবাড়ীর ‘ছাত্র হত্যা’ মামলায় ভিত্তিহীনভাবে তাঁদের আসামি বানিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো কেন? নুরের অভিযোগ, হঠাৎ করে “বিপ্লবের চেতনায় দখলদার” হয়ে ওঠা ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল মবের চাপে প্রশাসন অনেক সময় অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর প্রভাব প্রশাসনসহ সমাজে কী ধরনের সংকট তৈরি করছে, সেটি কি সবাই উপলব্ধি করছে?

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার কারণে এই গ্রেপ্তার দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার কাছে রেফারেন্স হয়ে যাবে। এতে প্রমাণ হবে, যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন—গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী কিংবা সেলিব্রিটিরাও মবের চাপে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মামলা বানানো এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আরও প্রবল হবে। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয়ে পড়তে পারে। নুরের মতে, এসব ভুল পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পথ প্রশস্ত করবে।

তিনি বলেন, ‘জনকণ্ঠ’ দখলের মতো ‘মাই টিভি’ দখলেও যারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।’

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যার মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গত ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরদিন সোমবার আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়। এতে নাসির উদ্দীন সাথী ছিলেন ২২ নম্বর আসামি, আর তাঁর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত