কেমন হবে জকসু নীতিমালা? 

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও রোডম্যাপ ঘোষণাসহ সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে ক্যাম্পাস আন্দোলনে চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন চেয়েছেন এবং পরিবর্তন সাপেক্ষে স্মারক লিপিও প্রদান করে। এতে নির্বাচনের লক্ষ্য, অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে জকসুর নীতিমালা কেমন হতে পারে।  

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে থেকে পাওয়া শিক্ষার্থী নতুন বিধিমালায় ছাত্র সংসদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বিষয়ে যা জানা গেছে। নিম্নে সেগুলো হলো উল্লেখ করা হলো:  

(১) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ জকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে- "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী" বলতে সেই সকল পূর্ণকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝানো হবে, যারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হয়ে অধ্যয়ন শুরু করেছে এবং মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। 

(২) শুধুমাত্র ১ (১) বিধিতে উল্লিখিত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ভোটার হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

(৩) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশেষ ডিগ্রি বা কোর্সে অধ্যয়নরত কিংবা দেশ বা বিদেশের সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরতরা ভোটার হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

(৪) প্রফেশনাল কোর্স/প্রোগ্রাম (যেমন- এমবিএ, ইএমবিএ, এম.ইডি ইত্যাদি), পেশাদার/এক্সিকিউটিভ/বিশেষ স্নাতকোত্তর কোর্স, এম.ফিল, পিএইচডি, ডিবিএ বা সমমানের কোর্স, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স, ভাষা কোর্স ও অনুরূপ অন্যান্য ফোর্সের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবে না।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কোনো কলেজ/প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবে না।

(৬) উপরে উল্লিখিত ১.(১) ও ১.(২) বিধিতে বর্ণিত যোগ্যতা সম্পন্ন ভোটাররাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

পদাধিকারীদের নির্বাচন পদ্ধতি

(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে (এক্স অফিসিও) সভাপতি হবেন।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে (এক্স অফিসিও) কোষাধ্যক্ষ মনোনীত হবেন।

(৩) সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ ব্যতীত অন্যান্য সকল পদাধিকারী ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সরাসরি শিক্ষার্থী সংসদের সাধারণ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন, যা নির্ধারিত নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। 

(৪) নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বছর (৩৬৫ দিন) মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্বাচন তাদের কার্যকালের শেষ হওয়ার পূর্বে ৪৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। যদি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হয় তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে শিক্ষার্থী সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এদিকে জকসু নীতিমালা প্রণয়নের জন্য এবং সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশের জন্য একটি কমিটি ও গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত নীতিমালার আলোকেই সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত হবে জকসুর নীতিমালা। সিন্ডিকেট মিটিংয়ের শেষে জানা যাবে কোন কোন নীতিমালা থাকছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন গুলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাবিত খসড়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা নিজেরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখন সেই বিষয়গুলা যুক্ত হবে নাকি সংশোধন করা হবে তা বুঝা যাবে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে পর।

এবিষয়ে জবি শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন,যেটা আছে সেটা ঠিক আছে তবে আমরা নারী ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক যুক্ত করার প্রস্তাব করেছি।

জবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রটের সভাপতি ইভান তাহসিভ বলেন, জকসু নীতিমালা মালার প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রের প্রথম খসড়ায় আমরা দেখেছি ভিসির হাতে পুরো ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় চাইলেই তিনি যেকোন সময় কমিটি বিলুপ্ত করে দিতে পারবেন। এর পাশাপাশি কাকে কখন কমিটি থেকে দরখাস্ত করবেন একেকভাবে এই ক্ষমতা তার হাতে থাকবে। প্রাথমিকভাবে আমরা এই বিষয়টি বিপক্ষে মত দেই। অথচ জকসু ছাত্রদের বিষয়। শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম নিয়ে কি নীতিমালা হবে সেটাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

বাগছাসের আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন,আমাদের নীতিমালা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। প্রথম যে খসড়া হয়েছিল ওই অনুযায়ী নীতিমালা হলেও বাঁধা নেই। বয়সের ব্যাপারে ও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

জবি শাখা ইসলামি ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল বলেন, আমরা সর্ব শেষ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক যুক্ত করা, ছাত্র বলতে যারা নিয়মিত ছাত্র মাস্টার্স পর্যন্ত শুধু তারা থাকবে। যাদের তিন বছরের বেশি গ্যাপ থাকবে তাদের মাস্টার্স রানিং থাকলেও প্রার্থী হতে পারবে না এটা যুক্ত থাকা। ট্রেজারার ও অর্থ সম্পাদক দুইটা পদের স্থলে একটা পদ রাখা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.রেজাউল কিরম বলেন,জকসু নীতিমালার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।এখন কমিটি আগামী বুধবার তাদের নীতিমালাটা উপস্থাপন করবে। তারপর চূড়ান্ত জকসু নীতিমালা প্রকাশিত হবে।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ কলেজ থাকা সময়ে মোট ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে সর্বপ্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে। সবশেষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন মো. আলমগীর সিকদার লোটন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত