আড়াই বছর পর বেনাপোল দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম

আড়াই বছর পর আবারও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভারতের একটি ট্রাকে প্রথম চালানে ১৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসে। মঙ্গলবার বিকালে কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পেঁয়াজের ওই চালান বেনাপোল বন্দর থেকে খালাস দেওয়া হয়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাগেরহাটের এস এম ওয়েল ট্রেডার্স এবং রফতানিকারক ভারতের কলকাতার ন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী শ্যামল কুমার নাথ জানান, ‘প্রথম চালানে ১৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। মান পরীক্ষার পর বন্দর থেকে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

ভারত থেকে আমদানির খবর ছড়াতেই দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

ক্রেতা বাবলুর রহমান বলেন, ‘রবিবারও দেশীয় বাজারে পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অথচ আমদানির খবর শুনেই একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা কমে গেছে। এতে বোঝা যায়, কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে রেখেছিল।’

তথ্যমতে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৭-২৮ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪ সালে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ মেট্রিক টন। গত দুই বছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন। তবুও বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার আবার আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আমদানি বন্ধ রেখেছিল। পরে ভারতও রফতানি বন্ধ করে দেয়। দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও কিছু অতিলোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। অবশেষে সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির অনুমতি দেয়।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাজন হোসেন জানান, ‘আমদানিকৃত পেঁয়াজের ঘোষিত মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৩০৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার ৪২৯ টাকা। চালানটি দ্রুত খালাসে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত