খুলনা মহানগরীর শিপইয়ার্ড সড়ক 

বিল তুলে ২৫৪ কোটির কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:০৪ পিএম

খুলনা মহানগরীর শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। তারপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেরও অধিক সময়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শম্বুক গতির কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে ৭০ ভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময় ১৪ বার সতর্ক বার্তা (ওয়ার্নিং লেটার) দিলেও নির্ধারিত সময়ে বাকি কাজ সমাপ্ত করেনি। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পথচারীসহ এলাকাবাসী। ফলে জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় কাজ শুরুর জন্য রিটেন্ডার করেছে কেডিএ। এদিকে, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছে খুলনা নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। 

কেডিএ সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুনে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা কেডিএ। ফলে প্রথম দফায় এক বছর এবং দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

সেই লক্ষ্যও পূরণ না হওয়ায় পরে নতুন করে তৃতীয় দফায় একবছর, চতুর্থবার প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিনবছর, পঞ্চম দফায় দুইবছর, ষষ্ঠ ধাপে ছয় মাস ও সপ্তম দফায় ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ মেয়াদ শেষ হয় চলতি জুনে। তবে সপ্তম মেয়াদে কাজের ভৌত অগ্রগতি হয় শতকরা ৭০ভাগ। বাকি কাজ সম্পন্নে অষ্টম ধাপে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরের প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে ঠেকেছে ১২ বছর বা একযুগে। 

তবে মেয়াদের পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়। প্রথমবার ২৮ কোটি টাকা বাড়ানো হলেও দ্বিতীয়বারে এক লাফে ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়। এতে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়। পরে অবশ্য ব্যয় কিছুটা কমাল তা এসে দাঁড়ায় ২৫৪ কোটি টাকায়। এরমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হয় ১১১ কোটি টাকা এছাড়া বাকি অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয় ১৪৩ কোটি টাকা। আটধাপে অবকাঠামো কাজের মধ্যে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ বাবদ ঠিকাদাররা ৭০ ভাগ টাকা তুলেছেন। এখনো অবকাঠামো কাজের ৩০ শতাংশ বাকি রয়েছে। এরমধ্যে সড়কে বেইজ টাইপ-১ (পাথরের স্তর), এসফল্ট (কার্পেটিং), ব্রিজ, ডিভাইডার ও স্ট্রিট লাইট স্থাপন রয়েছে।

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স সড়কটির সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগের কারণে গত ৭ আগস্ট চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। তবে কবে এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। 

অপরদিকে, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে উক্ত সড়কে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছে খুলনা নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, শিপইয়ার্ড রোডের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরবাসীর জনদুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিলম্বে এই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা না হলে আন্দোলনসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে সড়কের ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছিল ঠিকাদার। গৃহায়ণ উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও তারা শোনেনি।

এজন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তাদের জামানতের ১২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় কাজ শুরুর জন্য রিটেন্ডার করা হয়েছে। 

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেড অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকল্প ম্যানেজার মো. আশরাফ আলী বলেন, একনেকে ২০১৩ সালে সড়কটির নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেওয়া হলেও ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওয়াসার পাইপলাইন
স্থাপনসহ নানাবিধ কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। তবে কেডিএ কার্যাদেশ বাতিল করায় মালামাল ফেরত নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত