পাটুয়াখালী জেলার বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের কুম্বখালি-নুরাইনপাশা খালের হাওলাদারবাড়ি এলাকা থেকে গত শনিবার (২৩ আগস্ট) উর্মি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে।
পরকীয়ার জেরে তাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নিহত উর্মীর বাবা, মা ও দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর সকালে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে নিখোঁজ নাটক করে ঊর্মীর পরিবার। পরে ২দিন পর শনিবার সকাল ৮টায় পাশের কুম্ভখালী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় মেয়ের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই দিন রাতে বাউফল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
কিন্তু পুলিশি নজরে থাকেন মেয়ের মা আমেনা বেগম, বাবা নজরুল বয়াতি ও দুলাভাই কামাল হোসেন (৩২)। অবশেষে ঘটনার ৭ দিন পর রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন ওই তিন ব্যক্তি। পরে বুধবার সকালে তাদের ৩ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
জানা গেছে, মায়ের পরকীয়া সম্পর্ক দেখা ফেলেন ঊর্মী। একই যুবকের সঙ্গে ঊর্মীরও সম্পর্ক হয়ে যায়। কিন্তু ঊর্মীর মা-বাবা কেউই এই সম্পর্কে রাজি ছিল না। তাই ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে মা আমেনা বেগম, বাবা নজরুল ও দুলাভাই কামাল মিলে ঊর্মীকে ব্যপক মারধর করেন। একপর্যায়ে গলাপিটে হত্যা করা হয় উর্মীকে পাশের নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই তিনজনই আমাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দায় স্বীকার করেছেন।
