হত্যা মামলার আসামির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৪ এএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় আলমাস সরদার (৩২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার উমরদ্দিন মাদবর কান্দি এলাকার জব্বার মাস্টারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহটি পাওয়া যায়। আলমাস উমরদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের মৃত সহন সরদারের ছেলে। তিনি বিএনপি নেতা খবির উদ্দিন সরদার হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি ছিলেন।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আলমাসসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ২০-২৫ জন অজ্ঞাত আসামি করে বৃহস্পতিবার খবিরের বড় ভাই দানেশ সরদার বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। একদিন পরই আলমাসের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। খবির সরদার ও আলমাস সরদার সম্পর্কে চাচা ভাতিজা।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে বের হলে খবির সরদারের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে স্থানীয় জব্বার মাস্টারের ডোবায় ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা খবিরের রক্তাক্ত দেহ ডোবা থেকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এর একদিন পর ওই ডোবার পশ্চিম পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি আলমাসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সুরতহাল শেষ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। 

আলমাসের বোন হালিমা আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই, ফাঁসি চাই।

এদিকে, খবির সরদারের স্ত্রী মেঘনা বলেন, আমার স্বামী সরদার বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সদস্য ছিলেন। মসজিদের আজান ও আজানের পর বয়ানে ঘুমের ব্যাঘাত হয় আলমাসের। তাই  মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের বকাঝকাসহ হুমকি দেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার স্বামীকে আলমাস ও তার লোকজন হত্যা করেছে। যারা আমার দুই ছেলে দুই মেয়েকে এতিম করেছে তাদের বিচার চাই।

জাজিরা থানার ওসি মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন, আলমাস লাশ অর্ধগলিত হওয়ায় শরীরের আঘাতের চিহ্ন বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত