খুলনায় আন্তর্জাতিক গুম দিবস

ছেলেকে ফিরে পেতে ৯ বছর ধরে পিতার অপেক্ষা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম

গুমের শিকার সাতক্ষীরার হোমিও চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান জনির পিতা শেখ আব্দুর রাশেদ জানান, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ছেলেকে ফিরে পেতে অপেক্ষা করছেন। কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের পানিও শুকিয়ে এসেছে। গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে আদালতে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতেও শরীর অসুস্থ্য পড়েছে। কিন্তু কোথাও কোনও প্রতিকার মিলছে না। তাই সবশেষ ছেলেকে ফেরত পেতে ও ক্ষতিপূরণ পেতে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছেন।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় ‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক’ দিবস উপলক্ষ্যে খুলনায় মানববন্ধন ও র‌্যালিতে অংশ নিয়ে এসব কথা জানান তিনি।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’র নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও পরিচালনা করেন অধিকার খুলনার ফোকাল পার্সন মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। দিবসের বিবৃতি পাঠ করেন মানবাধিকার কর্মী কে এম জিয়াউস সাদাত। এর আগে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে পিকচার প্যালেস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

শেখ আব্দুর রাশেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই হিমেলের নেতৃত্বে পুলিশ জনিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯ বছরেও তার সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। ছেলেকে হারিয়ে তাদের সংসার তছনছ হয়ে গেছে। জনির মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা অভিযুক্ত সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ওসি এমদাদ হোসেন ও এসআই হিমেলসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের কঠোর শাস্তি এবং জনিকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে সরকারের কাছে অধিকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি ফেরত আসেনি তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জনগণকে জানাতে হবে। যেসব গুমের শিকার ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেননি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যেন গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ বা বিক্রি করতে পারে- সে ব্যবস্থা করতে হবে। গুমের পর কিছু ব্যক্তিকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে তাদের পাওয়া গেছে; তাই ভারতে এখনো গুমের শিকার কেউ আটক আছেন কি না- সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। গুম থেকে ফিরে আসা অনেক ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে; কারও ক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য বা নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করে নিম্ন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাই এসব মামলা প্রত্যাহার ও ভুক্তভোগীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে।

এ ছাড়া গুমের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করতে হবে ও গুম প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন করতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত