গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘঠেছে। এতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ও কার্যালয়ের সামনে রাখা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থানীয়রা জানায়, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিকের অপসারণের দাবিতে সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। দুপুরে গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কে একটি মিছিল বের হয়। এ সময় অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করে। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি কাউন্সিল ছাড়াই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দোসরদের পুনর্বাসন করে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ করা হয়। তখন মইনুল হাসান সাদিক, উপজেলা নেতা ছামছুল হাসান ও ছালাম মিয়ার সমর্থিত নেতাকর্মীরা শাহিন আল পারভেজের নেতৃত্বে লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকের ওপর হামলা করে।
পরে তাদের প্রতিহত করতে দুই পক্ষেল মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে একজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক শাকিল মিয়াসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
ঘটনার পর উত্তেজিত নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। এসময় কার্যালয়ের সামনে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ও সদস্য সচিব আব্দুস ছালাম মিয়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন আল পারভেজ বলেন, হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে চেয়ার ভাঙচুর করে। এ সময় অফিসের সামনে থাকা ৪-৫টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।
অপরদিকে, সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল বলেন, জেলা সভাপতি ডা. সাদিকের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে বিএনপির একাংশ। পরে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম মিয়া বলেন, জেলা সভাপতি ডা. সাদিকের অপসারণ দাবিতে শান্তিপুর্ণ মিছিল হচ্ছিল। কিন্তু সাদিকপন্থীরা হামলা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের পক্ষের ৫-৭ জন আহত হয়েছেন।
এসব বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি।
