শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও ৬ জনের সাক্ষ্য

‘সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ গুলি করেছে’

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের দশম কার্যদিবসে এ সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ নিয়ে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো।

সাক্ষীদের মধ্যে সিলেটের ‘৭১ এর কথা’র ফটোসাংবাদিক মো. মোহিদ হোসেন গত বছর ১৯ জুলাই সিলেটে দৈনিক জালালাবাদ ও দৈনিক নয়া দিগন্তের ফটোসাংবাদিক এটিএম আবু তুরাবের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ গুলি চালায়, যাতে তুরাব মারা যান।’

মোহিদ জানান, ওইদিন সিলেটের কালেক্টরেট জামে মসজিদে বিএনপির গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি শেষে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়। মিছিল জিন্দাবাজারের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। তিনি বলেন, “আমি হাত তুলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাদেক দস্তগীরকে বলছিলাম, ‘আমরা সাংবাদিক, গুলি করবেন না’। তবু পুলিশ গুলি চালায়।” তিনি জানান, এতে তুরাব গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধার কারণে ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

অন্য পাঁচ সাক্ষী হলেন সাংবাদিক হুমায়ুন কবির লিটন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. হাসানাৎ আল মতিন, সিএমএইচের ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের ওয়ারেন্ট অফিসার তারেক নাসরুল্লাহ, নিটোরের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রশিদুল আলম এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. রাহাদ বিন কাশেম।

সাক্ষ্যগ্রহণের পর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন সাক্ষীদের জেরা করেন। মামলার অন্য আসামি কারাগারে থাকা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তিনি এ মামলার রাজসাক্ষী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত