'সুপার স্পাইকস' জুতোয় আফসোস বোল্টের, 'ইশ, যদি আরেকটু খেলতাম!'

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম

অ্যাথলেটিকসের কিংবদন্তি উসাইন বোল্ট তার অবিশ্বাস্য গতি দিয়ে "গতির সীমা"কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তার আটটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয় এবং ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টের রেকর্ড যা আজও অটুট। এই জ্যামাইকান সম্প্রতি 'দ্য টাইমস' পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার অবসর পরবর্তী জীবন, স্পন্সরদের প্রত্যাশার চাপ এবং খ্যাতির প্রভাব নিয়ে কিছু অজানা দিক উন্মোচন করেছেন।

জ্যামাইকার ট্রেলনিতে জন্মগ্রহণকারী বোল্ট বর্তমানে কিংস্টনে তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি জানান, তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল তিনটি অলিম্পিক গেমসে জয়লাভ করা। তিনি বলেন, “আমি আসলে তার আগের বছরই অবসর নিতে চেয়েছিলাম। আমার মূল লক্ষ্য ছিল তিনটি অলিম্পিক গেমসে জয়ী হওয়া। এটি অর্জন করার পর, আমি ট্র্যাক থেকে সরে আসতে চেয়েছিলাম।”

কিন্তু স্পন্সর এবং ভক্তদের চাপের কারণে তাকে ক্যারিয়ার আরও বাড়াতে হয়। তিনি বলেন, “তারা আমাকে বলেছিল, 'তোমার ফিরে আসা উচিত।' এটি একটি কঠিন মৌসুম ছিল। আমার মধ্যে আগের মতো কোনো অনুপ্রেরণা ছিল না।” তার শেষ মৌসুমে চিকিৎসক তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, তিনি প্রতিযোগিতার জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন। “যদি তুমি অতিরিক্ত চাপ দাও, তাহলে তুমি আহত হবে,” চিকিৎসক তাকে বলেছিলেন। তবুও সবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য তিনি মাঠে নেমেছিলেন এবং শেষ প্রতিযোগিতায় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন।

নিজ বাড়িতে ট্রফির সংগ্রহশালায় উসাইন বোল্ট। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ডোপিং প্রসঙ্গে বোল্ট কঠোর মনোভাব দেখান। তিনি বলেন, “যদি কোনো অ্যাথলেট পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহার করে, তাহলে তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা উচিত।” ২০০৮ সালের অলিম্পিকে তার সতীর্থ নেস্টা কার্টারের ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার কারণে যখন বোল্টকে তার রিলে স্বর্ণপদকটি ফেরত দিতে হয়েছিল, সেই ঘটনাটিকে তিনি "হতাশাজনক" হিসেবে বর্ণনা করেন।

তার দুটি বিশ্বরেকর্ড এখনো অটুট। ফাইল ছবি

বোল্ট তার শৈশবের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমাদের বাড়িতে সাধারণ মানুষের মতো জল আসত না। আমাদের নদীতে যেতে হত, অথবা বৃষ্টির জল সংগ্রহ করতে হত।” তিনি আরও জানান, তাদের ইন্টারনেট বা টেলিফোনের মতো আধুনিক সুবিধা ছিল না। এসব অভিজ্ঞতা তাকে ছোটবেলা থেকেই দৃঢ়তা, প্রচেষ্টা এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষা দিয়েছে।

বাবা হওয়ার পর তার দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আগে তিনি কোচিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও এখন তিনি বলেছেন, “আর 'না' নয়, এখন 'হয়তো'।” তার সঙ্গী কাসি বেনেট এবং তিন সন্তান, অলিভিয়া লাইটনিং, সেইন্ট লিও এবং থান্ডারকে নিয়ে তিনি জীবনে নতুন ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন।
বোল্ট বর্তমান অ্যাথলেটিক্সে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, "নতুন প্রজন্মের 'সুপার স্পাইকস' জুতাগুলো সত্যিই দারুণ সুবিধা দেয়। আমি যদি আরেকটু বেশি সময় ধরে খেলতাম এবং এই জুতো ব্যবহার করতে পারতাম।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত