খুলনায় সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর রহস্যজনক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে নানা বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে নৌপুলিশ। তবে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকা- তা আগে নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। শিগগির বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশাবাদী তারা।
নৌপুলিশ সূত্র জানায়, গত সোমবার প্রয়াত সাংবাদিক বুলুর ভাই আনিসুজ্জামান দুলু বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলাটি গ্রহণ করে জোরেশোরে তদন্ত শুরু করেছে নৌপুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপসা নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ওসি) আবুল খায়ের শেখ বলেন, বিভিন্ন কারণ সামনে রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকা- এটি আগে নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। যদি আত্মহত্যাও হয় কে তাকে প্ররোচিত করেছে সেটিও জানার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রতিটি বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এগোচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে খুলনা নৌপুলিশের এসপি ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকা- এটি নির্ণয়ের জন্য ব্রিজের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকৃত বুলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন লক ছিল। সেটি খোলা হয়েছে। কল লিস্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ছাড়া পোস্টমর্টেমসহ অন্য রিপোর্টগুলো হাতে পেলে পরিষ্কার হওয়া যাবে। শিগগির বিষয়টি উদঘাটন হবে ।
তিনি জানান, পারিবারিক সমস্যাগুলো বিশেষ করে বুলুর বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া দ্বিতীয় স্ত্রী তানিয়া সুলতানা ও বাসার কাজের মহিলা রাবেয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার নৌপুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রয়াত সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর ভাই ও মামলার বাদী আনিসুজ্জামান দুলু, বুলুর মামা নাজমুল ইউসুফসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সুপার ডা. মঞ্জুর মোরশেদ কথা বলেন। এ সময় বুলুর সার্বিক বিষয় সম্পর্কে পুলিশ সুপার তাদের কাছে জানতে চান।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর রূপসা সেতুর ২ নম্বর পিলারের বেজমেন্ট থেকে সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।
