আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে গোলাপি রঙের পোশাক পরে এবং ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভে নেমেছে ইন্দোনেশিয়ার নারীরা। সংস্কারের দাবিতে প্রতীক হিসেবে ঝাড়ু নিয়ে বুধবার তারা এ বিক্ষোভ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিক্ষোভরত নারীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে ‘পুলিশ সংস্কার করো’ এবং ‘তোমার মিষ্টি প্রতিশ্রুতিতে ডায়াবেটিস হচ্ছে’-এরকম নানা স্লোগান দেখা গেছে। বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘দ্য অ্যালায়েন্স অব ইন্দোনেশিয়ান উইমেন’ জানিয়েছে, রাষ্ট্রের ময়লা-আবর্জনা এবং নিরাপত্তাবাহিনীর দমন-পীড়ন ঝাঁট দিয়ে বিদায় করার প্রতীকী বার্তা দিতেই ঝাড়ু ব্যবহার করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতিমধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে ১০ জন নিহত হয়েছে। অনেক স্থানে লুটপাট ও দাঙ্গারও খবর পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো চীনের বেইজিংয়ে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ও জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে। দেশে বিক্ষোভের কারণে তিনি আগে এই সফর বাতিল করলেও পরবর্তীতে অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি চীন সফরে যান বলে তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও পূর্বেই বলেছিলেন, সহিংসতা দেখা দিলে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ কঠোর হাতে মোকাবেলা করবে। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভের কিছু অংশে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিক্ষোভ মোকাবেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকা তদন্ত শুরু করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ও বিক্ষোভে বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ইন্দোনেশিয়া জ্বলছে গণবিক্ষোভের আগুনে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বাড়িতে এবং প্রাদেশিক আইনসভায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ বৃদ্ধি এবং সংসদ সদস্যদের জন্য সাধারণ নাগরিকের গড় আয়ের ৩০ গুণ বেশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনগণের ক্ষোভের মূল কারণ। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই ‘ডার্ক ইন্দোনেশিয়া’ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের নেতৃত্বে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল, যা এখন দাবানলের রূপ নিয়েছে।
রাজধানী জাকার্তাসহ পশ্চিম জাভা, বালি ও লম্বকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার দমন-পীড়নের কঠোর রাস্তা নিলেও তা কাজ করছে না। টিকটক ইন্দোনেশিয়া লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ রেখেছে। এই আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
