অটোর দৌরাত্ম্যে আমতলীর মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম

বরগুনার আমতলীর মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কেউ সুস্থ হয়ে ফিরলেও অনেকেই সারাজীবন বিকলাঙ্গ হয়ে বেঁচে থাকেন। 

বেপরোয়া যানবাহনের গতি আর অবৈধ তিন চাকার অটোর দৌরাত্ম্যে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা। এ অবস্থায় হাইওয়ে থানা স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

আমতলী উপজেলার সীমানার মধ্যে পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়কের শাঁখারিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বান্দ্রা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক দুর্ঘটনার ‘হটস্পট’। এখানে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে। শুধু গত ছয় মাসে দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০–৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় চার শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও দেশের বৃহত্তম ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। 

প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, লোকাল ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ পথে। কিন্তু হাইওয়ে থানার অভাবে এই সড়ক এখন দুর্ঘটনা, চুরি-ডাকাতি, মাদক কারবারিদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।

সচেতন মহল মনে করে, নিরাপদ সড়ক ও যাত্রী-পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমতলীতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন জরুরি। এতে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য, ছিনতাই ও বেপরোয়া গতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিঞা দেশ রুপান্তরকে বলেন, আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সচেতন মহলের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন দেয়া হয়েছে। আমতলীতে হাইওয়ে থানার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত