বছরের সর্বোচ্চ ১৪০০ কোটির লেনদেন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২০ এএম

২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের শেয়ারবাজারে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড হয়েছে। গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশগ্রহণ করা তালিকাভুক্ত ৪০০ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি এদিন দর কমার তুলনায় দর বৃদ্ধি পেয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যাও ছিল বেশি। বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সরকার জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক গতিধারা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। ওই দিন শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এর পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ১১ আগস্ট সরকারের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ আরও বেড়ে ২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর ১১ আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার বেশি। তবে বাজার লেনদেনে অংশগ্রহণকারী; শেয়ার সংখ্যা ও সবগুলো সূচকে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের তুলনায় এখনো পিছিয়ে আছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকার আমলে শেয়ারবাজারের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা টেকসই হয়নি। এ সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সাইড লাইনে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। এর মধ্যে বিএসইসির অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দিলে বিনয়োগকারীদের মধ্যে ফের আস্থার সংকট তৈরি হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে পুঁজিবাজার সংস্কারে ৫টি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। যা পর্যাক্রমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। সব শেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের ঘোষণার পর লেনদেনে চাঙ্গাভাব আসতে শুরু করে। যা বিগত কয়েক কার্যদিবসের লেনদেনে লক্ষ করা যাচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে লেনদেনের গতি তত বাড়ছে। এতে বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। পাশাপাশি বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। এছাড়া লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৪৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৭টির। এছাড়া ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে মাত্র এক ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে। এছাড়া ৫টির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭২টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ২০টির দাম কমেছে। এছাড়া ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫টির এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ৩৬ মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত