ব্লেন্ড করলে কি খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়?

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৫ এএম

আধুনিক জীবনে সময় বাঁচাতে আমরা অনেকেই ফল, সবজি বা বাদাম ব্লেন্ড করে জুস, স্মুদি কিংবা স্যুপ বানিয়ে খেতে পছন্দ করি। এতে খাওয়ার ঝামেলা কমে যায়, স্বাদেও আসে ভিন্নতা। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ব্লেন্ড করলে কি আসলেই খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লেন্ড করা মানেই খাবারের সব গুণ চলে যায় এমনটা নয়। বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে হজম সহজ করে তোলে। যেমন ফলের ভেতরের আঁশ ব্লেন্ড করার পর শরীর দ্রুত শোষণ করতে পারে। তবে সমস্যা হয় যদি বেশি সময় ধরে ব্লেন্ড করা হয়। যান্ত্রিক ঘর্ষণে তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভিটামিন সি বা বি-কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল ভিটামিনকে কিছুটা ভেঙে দিতে পারে। আবার বাতাসের সংস্পর্শে আসায় অক্সিডেশন হয়, ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো সংরক্ষণ। ব্লেন্ড করার পর ফল বা সবজি বেশি সময় ফেলে রাখলে এর স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনি ভিটামিনও দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। তাই ব্লেন্ড করা খাবার সঙ্গে সঙ্গেই খাওয়া ভালো। এতে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। চাইলে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলে অক্সিডেশন কিছুটা কমানো যায়।

তবে মনে রাখা দরকার, ফল বা সবজি কেটে খাওয়ার তুলনায় ব্লেন্ড করে খেলে আঁশের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে। কারণ ব্লেন্ড করলে আঁশ ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে যায়, যা পেটে গিয়ে পূর্ণতার অনুভূতি আগের মতো দেয় না। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য সরাসরি ফল খাওয়াই বেশি কার্যকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্লেন্ড করা খাবারের পুষ্টিগুণ পুরোপুরি নষ্ট হয় না। তবে সঠিকভাবে ব্লেন্ড করা, দ্রুত খেয়ে ফেলা এবং সংরক্ষণে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য যত্ন নিলেই ব্লেন্ড করা খাবারও হতে পারে শরীরের জন্য সমান উপকারী ও সুস্বাদু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত