রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং ও গ্রিন সিটি হাউজিং এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে চার যুবককে আটকে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, পৃথক ঘটনায় গণপিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছে। তারা ছিনতাইকারী বলে ধারণা পুলিশের। তাদের নামে একাধিক ছিনতাই মামলা রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
নিহতরা হলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চরটিট্রা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও শাহানাজ বেগমের ছেলে সুজন ওরফে বাবলু এবং লালমোহন উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর ও রানু বিবির ছেলে হানিফ। তারা মোহাম্মদপুর থানার বছিলা ৩ নম্বর রোড এলাকায় থাকত। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ছিনতাইকারী শরীফ ও জুয়েল।
স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে কয়েকজন ছিনতাইকারী নবীনগর ও বসিলা ৪০ ফিট এলাকার খালের সাঁকোর কাছে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছিনতাই করে। এরপর ভোর ৪টায় দ্বিতীয় দফায় আবারও ছিনতাই করতে এলে স্থানীয়রা চার ছিনতাইকারীকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ বলছে, গণপিটুনিতে নিহত দুজনই সক্রিয় ছিনতাইকারী। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক ছিনতাই মামলা রয়েছে। পাশাপাশি একই ঘটনায় আরও দুজন আহত আছে। তারা পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারাও ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গণপিটুনির শিকার ছিনতাইকারী সুজন ও জুয়েল ঢাকা উদ্যান এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী চক্রের অন্যতম প্রধান জনি ওরফে রক্তচোষা জনির ঘনিষ্ঠ। তারা এ এলাকায় প্রতিনিয়ত ছিনতাই করে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকারীরা প্রকাশ্যে এমন কর্মকান্ড করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বের হয়ে এসেই আবারও প্রকাশ্যে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটায়।
গত ৮ সেপ্টেম্বের মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের পাশে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গণপিটুনিতে মো. ইয়ামিন নামে ‘এক ছিনতাইকারী’ নিহত হয়। ওই ঘটনায় একজন আহতও হয়। এর আগে গত ১৫ মে মোহাম্মদপুরের সিটি হাউজিং এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহ রাকিব হোসেন নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তখন গণপিটুনিতে রাকিবের সঙ্গে থাকা মিলন হোসেন গুরুতর আহত হয়। ৮ সেপ্টেম্বেরের ঘটনায় একটি ছবিতে দেখা যায়, ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে দুই যুবকের পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিথর অবস্থায় পড়ে আছে তাদের রক্তাক্ত দেহ। আশপাশে লোকজন ভিড় করে সেই দৃশ্য দেখছে।
এ বিষয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী রফিক বলেন, নবীনগর হাউজিংয়ের ১৬ নম্বর হাক্কারপাড় এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় জনতা সুজনকে ধরে ফেলে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পৃথক আরেকটি ঘটনায় গ্রিন সিটি হাউজিংয়ের ৩ নম্বর রোডে ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে মারধরের শিকার হয় হানিফ। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র) পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাইসহ একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, এর আগেও গণপিটুনির ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
