বৃষ্টি-উজানের ঢলে ফুঁসছে তিস্তা, উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৪ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে টানা দুইদিন বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে এ অঞ্চলে বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েই চলছে। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ ফুঁসে উঠছে তিস্তা নদী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উজানের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার থেকে মেখলিগঞ্জ ও বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর,কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ফুলে-ফেঁপে উঠেছে খরস্রোতা নদীটি।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার (৬৫.৯৫) শূন্য দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার (৬৬.১৩) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে খবরে বলা হয়েছে। যা বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। সেখানকার তিস্তায় রেজ অ্যালাট জারি করা হয়েছে।

এদিকে গত ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তায় ৩৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি রবিবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে ৯ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার (৫২.১৫) দশমিক ৯ সেন্টিমিটার (৫২.০৬) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে যে কোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচগেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নজরদারী শুরু করেছেন। বর্তমানে তিস্তা অববাহিকায় কমলা সর্তকাবস্থা জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। 

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তাই যে কোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সাধারণ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া তিস্তার অববাহিকায় নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এমনিতেই চলতি বছর আগস্ট মাসের তিন দফায় তিস্তার পানি বেড়ে আমনধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি নেমে গেলে সেখানে কৃষকরা পুনরায় আমন চারা রোপন করেছে। এখন পুনরায় তিস্তায় বন্যাহানা দিলে কৃষক পরিবারগুলো পথে বসতে হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা অববাহিকার ডালিয়া পয়েন্টে ৩৮ মিলিমিটার, কাউনিয়া পয়েন্টে ১৮ মিলিমিটার, গাইবান্ধা পয়েন্টে ১০১ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুরে ৮ মিলিমিটার, তেঁতুলিয়ার ৬৯ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩৯ মিলিমিটার ও নীলফামারীর ডিমলায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত