নেপালে ‘জেন-জি’ আন্দোলনে পলাতক বন্দিদের ধরতে নামছে বিশেষ বাহিনী

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম

নেপালে চলমান ‘জেন-জি’ আন্দোলনের অস্থিরতার মধ্যে বিভিন্ন কারাগার থেকে বহু বন্দি পালিয়েছে। দেশটির কারা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় ফেরত না এলে তাদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

কারাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক চমেন্দ্র ন্যুপানের হিসেবে, রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় এগারো হাজার বন্দি এখনো পলাতক।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত শুক্রবারের মধ্যে স্বেচ্ছায় ফিরে আসার জন্য বন্দিদের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এরপর অল্প কয়েকজন নিজেরাই ফিরেছেন এবং কয়েকজনকে পুলিশও ধরেছে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ বন্দি এখনও কোনো কারাগার বা কিশোর সংশোধনাগারে ফেরেননি।

ন্যুপানে জানান, “যারা স্বেচ্ছায় ফিরছে না, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।” তিনি আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর এবং অভিবাসন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা সীমান্ত পেরোতে না পারে। সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ভারত-নেপাল উন্মুক্ত সীমান্তের কারণে পলাতক বন্দিদের দেশ ছাড়ার ঝুঁকি বেশি। তাই বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পলাতক কেউ স্থানীয় এলাকায় লুকিয়ে থাকলে তা জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের আহ্বান বারবার প্রচার করা হচ্ছে।

ন্যুপানের ভাষায়, “কিছু বন্দি নিজেরাই ফিরতে চাইছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী আলাদাভাবে পলাতক অপরাধীদের ধরতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিটি থানাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ সে অনুযায়ী কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, “পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে সারা দেশে অভিযান চালানো হবে, যাতে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের দ্রুত খুঁজে বের করা যায়।”

মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, “এই অভিযানে শুধু কারাগার থেকে পালানোদেরই নয়, অন্যান্য অপরাধে জড়িতদেরও ধরা হবে। এজন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তার মতে, “অনেক পলাতক বন্দির আচরণ এখনো সংশোধিত হয়নি, ফলে তারা আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এটি ঠেকাতে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে, পালানো কয়েকজন বন্দি বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, আন্দোলনের সময় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাগুলো জেলা সদরে কেন্দ্রীভূত থাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত