কুমিল্লায় জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৭

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম

কুমিল্লার লালমাইয়ে দুলাল হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের হত্যা মামলায় আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ নিয়ে মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত ওই যুবক কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ভল্লবপুর গ্রামের জব্বর মালের ছেলে। 

র‍্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নোহা গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- দেবীদ্বার উপজেলার চুলাস গ্রামের ফারুক (৪৫), আতাপুর গ্রামের মফিজুল ইসলাম (৪৫) ও তাজুল ইসলাম (৪২), নুর মানিকচর গ্রামের মরিয়ম (৩৭) এবং ফাতেমা আক্তার সিনথিয়া (১৯), লালমাই উপজেলার রুবেল আহাম্মেদ (৩৯) ও লাকসামের আবুল হাসেম (৩৪)। এর আগে লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জহির ও খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। 

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ফাতেমা আক্তার সিনথিয়ার সঙ্গে ছয় মাস আগে দুলাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। সেখানে ফাতেমার সঙ্গে প্রবাসী আবুল হাসেমের পরিচয় হয় এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন দুজন। পরে ফাতেমা দুলালকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান এবং হাসেমকে বিয়ে করেন।

কিন্তু ডিভোর্স মানতে না চেয়ে দুলাল নানা সময় ফাতেমার বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক রাত কাটাতেন। বিষয়টি স্বামী হাসেমকে জানালে তিনি, ফাতেমা ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে দুলালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার দিন ফাতেমা জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন দুলালকে। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ড্রাইভার রুবেলের নোহা গাড়িতে করে মরদেহ লালমাই রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়। 

গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ওই দিন রাতেই নিহত দুলালের প্রথম স্ত্রী নাছিমা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের থানায় আনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত