রাকসুর ভোটে নিরাপত্তায় থাকবে দুই হাজার পুলিশ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১০ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ৯টি ভবনে ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। ৯৯০ বুথের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, অন্তত দুই হাজার পুলিশ সদস্য রাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারে মুখর ছিল রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস।

রাকসু নির্বাচনের প্রচারের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই প্রার্থীরা ভোটারদের সামনে হাজির হন। যারা প্যানেলের অধীনে ভোট করছেন, তারা একসঙ্গে বা একা একা প্রচার চালিয়েছেন। আর যারা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন তারা সহপাঠী বা বন্ধুর সঙ্গে প্রচারে নেমেছেন। অনেকেই একা একাই ভোটের মাঠে প্রচারে আছেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব ভবনে ভোটকেন্দ্র করা হবে সেগুলো হলো মমতাজউদ্দিন অ্যাকাডেমিক ভবন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কলা ভবন, ইসমাইল হোসেন সিরাজী অ্যাকাডেমিক ভবন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবন, জাবির ইবনে হাইয়ান অ্যাকাডেমিক ভবন, জামাল নজরুল অ্যাকাডেমিক ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু অ্যাকাডেমিক ভবন, জগদীশ চন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবন এবং জুবেরী ভবন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে ৯টি অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে ১৭টি কেন্দ্র এবং ৯৯০টি বুথ স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে। ভোট গণনার পুরো সময়টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে।’

এদিকে, গতকাল দুপুরের পর বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস যান রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু সুফিয়ান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তায় আমাদের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। যেহেতু ক্যাম্পাসের আয়তন অনেক বেশি। আমরা সেন্ট্রালকেন্দ্রিক একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করব। ভোট গণনার জায়গাগুলো আমরা দেখছি এবং কোন জায়গায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। নির্বাচনের দিনে আমাদের অন্তত দুই হাজার সদস্য ক্যাম্পাসে কাজ করবে।’

নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে তিন স্তরের। প্রথমত, ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া, দ্বিতীয়ত ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দেওয়া এবং সবশেষে পুরো ক্যাম্পাস একদম সিল করে দেওয়া। আমরা ইতিমধ্যে জানিয়েছি ওইদিন সবাইকে পরিচয়পত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রসহ ক্যাম্পাস জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানান তিনি।

এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে একটি প্রেস কর্নারের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নির্বাচন নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে দেশবাসীর প্রবল কৌতূহল রয়েছে। এ কৌতূহল মেটাতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের মাধ্যমেই সারা দেশ জানতে পারবে নির্বাচন কীভাবে হচ্ছে এবং নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে। মিডিয়া সেন্টারে ইন্টারনেট সংযোগসহ সব প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হয়েছে।’

এর আগে গত ২৮ জুলাই তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী সোমবার থেকে শুরু করে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলবে।

সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদের ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা : রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’। তাদের ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে অ্যাকাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান, রিসার্চ অ্যান্ড ইম্প্যাক্ট দপ্তর সৃষ্টি ও ফুড অ্যান্ড পাবলিক হেলথ মনিটরিং গ্রুপ তৈরিসহ ১২টি বিষয়।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার পাঠ করেন রাকসুর প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান। তাদের ইশতেহারে ১২ দফা হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে অন্তত ১০ বছর মেয়াদি অ্যাকাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে বাধ্য করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রিসার্চ অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট দপ্তর চালু করতে এবং এর মাধ্যমে বার্ষিক স্বচ্ছ রিপোর্ট প্রকাশ করতে বাধ্য করা, নির্বাচিত হওয়ার প্রথম দুই মাসের মধ্যে এক ট্যাপেই পরিশোধ করা যায় এমন সমাধানে যাব; কার্যকর ও শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব এবং তাদের সহায়তায় হলের খাবারে ভর্তুকি ও নতুন হল নির্মাণের তহবিল গঠন করব; নির্বাচিত হওয়ার প্রথম মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচনকে স্থায়ীভাবে ক্যালেন্ডারে যুক্ত করব ও সিনেট কার্যকর করে এর মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগের জন্য চাপ প্রয়োগ করব; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীদের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইইবি) অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ফুড অ্যান্ড পাবলিক হেলথ মনিটরিং গ্রুপ’ তৈরি করব; সবার জন্য ইনস্টিটিউশনাল মেইলের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে; আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমিউনিটি ফোরাম গড়ার নীতি ও বাস্তবায়নের দাবি তোলা হবে; অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থাকে শিক্ষার্থীনির্ভর করার প্রস্তাব দেওয়া হবে, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তাসিন খান বলেন, ‘রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরা যতটুকু ক্ষমতা পাব সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের ইশতেহার সাজিয়েছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার একবারে গোড়া থেকে কাজ করতে চাই।’

অন্যান্য প্যানেলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ক্লাসচলাকালে প্রচারণা চালানোর কোনো নিয়ম নেই। অনেকেই প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে, প্রশাসন এখনো এর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক দলগুলো অনেকে মিলে প্রচারণা চালাচ্ছে। সেখানে আমরা মাত্র ১৯-২০ জন। তারা বিভিন্ন উপঢৌকন বা ফিস্টের আয়োজন করছে। এ জায়গাগুলোতে আমরা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি, তাদের তাল মেলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে ও অসমতার দেখা দিচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত