প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জাপান সেল জাপানে জনশক্তি পাঠানোর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে জাপানে জনশক্তি পাঠানো-সংক্রান্ত তৃতীয় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, জাপান সেলের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ পোস্টে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য উল্লেখ থাকবে। পোস্টটি প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হবে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে জাপানে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপান সেলের কার্যক্রম-সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাপান শ্রমবাজার সম্পর্কিত জাপান ডেস্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। জাপান টাইমসের ৩০ মার্চ ২০২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে কর্মক্ষম জনসংখ্যার ঘাটতি ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। জাপান বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রাখছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেরণায় জাপানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কো-অপারেটিভ ফেডারেশন (এনবিসিসি), জাপান বাংলাদেশ ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি লিমিটেড (জেবিবিআরএ) এবং কাইকম ড্রিম স্ট্রিট বিডি কোম্পানি লিমিটেডের (কেডিএস) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
এতে বলা হয়, এনবিসিসির অধীনে স্পেসিফাইড স্কিল ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে কর্মী পাঠানো হবে। এজন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মী নির্বাচন করা হয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানো বৃদ্ধি পাবে এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। এই লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাস, বিজনেস ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতায় জাপান ডেস্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জাপান ডেস্কের কার্যক্রম : জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুসন্ধান, কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিতকরণ ও প্রচার, কর্মীদের জন্য ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল টেস্ট এবং তথ্য সংগ্রহ, জাপান ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়, এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কিউসিএস-১৭ কেন্দ্রের কার্যক্রম।
জাপান ডেস্কের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্যবিমোচন। জাপান ডেস্কের মাধ্যমে আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি। বিশেষত, জাপানি কর্মকর্তারা জাপান ডেস্কে কাজ করলে কর্মসংস্থান আরও সহজ হবে।’
জাপান ডেস্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপানি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষার (জেএলপিটি) সব স্তরের পরীক্ষা পরিচালনা ও নিরীক্ষণ এবং পরিমাণের পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করতে জাপান সরকার মনোযোগী। এজন্য জাপানি ভাষার প্রশিক্ষক, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য মেকানিক্যাল জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় কারিগরি প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, কাইকম ড্রিম স্ট্রিট বিডি কোম্পানি লিমিটেডের (কেডিএস) মাধ্যমে দক্ষ নার্সিং সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কেডিএসের সহযোগিতায় সিটিজি কেডিএস গ্রুপের অধীনে প্রশিক্ষণ ও জাপানি ভাষা এবং দক্ষতা অর্জনের কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি মডেল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে, যেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
