জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে চার রাজনীতিবিদ থাকার প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘সেখানে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতার নাম প্রকাশ্যে আসছে। আমেরিকায় গিয়ে তারা সমঝোতা করে ফেলতে পারবেন, তেমন কোনো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নাই।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর বিএফডিসিতে ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে ছাত্র সংসদের নির্বাচনের প্রভাব’ শীর্ষক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদে তিনি একথা বলেন।
‘প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেগোসিয়েশনে ভালো কোনো রেকর্ড নেই’ এমনটা দাবি করে মান্না বলেন, ‘এই প্রজন্ম বিশাল অভ্যুত্থান করে একটি সরকার ফেলছে। কিন্তু নতুন সরকার কীভাবে গঠন করবে তা নিয়ে ভাবেনি।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার মতো তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে যারা ভোট দিয়েছে তারা তো অন্যদের ইনফ্লুয়েন্স করবে, সে ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব তো পড়বেই।’
‘ডাকসু নির্বাচনের ভোট সন্তোষজনক ছিল’ এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিবির কেন জিতল, স্বাধীনতায় শিবিরের ভূমিকা কী তারা জানে না। কী প্রভাব এখানে কাজ করলে তার গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন।’
রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগে যেমন উগ্রতা ছিল সেটার পরিবর্তন হচ্ছে, আরও করতে হবে। আমরা আশা করি একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, যার ওপর গণতন্ত্রের সৌধ বানাতে পারব।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচনের আরও পাঁচ মাস বাকি আছে। তাই, ভোটে অনেক ফ্যাক্টর হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। দেশের মানুষ চায় সামগ্রিক রাজনীতির একটা পরিবর্তন।’
সমঝোতার ভিত্তিতে পিআর ইস্যুর সমাধান মিলবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘পিআর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত দুপক্ষের সঙ্গেই আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যাবে সেটি নির্ভর করে এলাকাভেদে। এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা হবে।’
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না’ শীর্ষক ছায়া সংসদে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক সাইদুর রহমান, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
