পাবনার ঈশ্বরদীতে সরকারি বরাদ্দকৃত র্যাবিস ভ্যাকসিনের (জলাতঙ্ক) ডোজ ৫০০ টাকা করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান সুজনের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীরা হাসপাতাল চত্বরে হইচই শুরু করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. আলী এহসান উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সুজনকে শোকজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সূত্র জানায়, কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ থেকে ৭১টি ভ্যাকসিন বরাদ্দ পায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেই ভ্যাকসিন আক্রান্ত রোগীদের দেওয়ার জন্য ইপিআই সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান সুজনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব পেয়েই সেই ভ্যাকসিন আক্রান্ত রোগীদের কাছে ৫০০ টাকা ডোজ হিসেবে বিক্রি করেন।
গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে একজন আক্রান্ত রোগী ভ্যাকসিনের (জলাতঙ্ক) জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তার কাছে গোপনে ৫০০ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে টাকা দিতে অস্বীকার করলে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না মর্মে জানিয়ে দেন ইপিআই সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান সুজন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হইচই শুরু হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. আলী এহসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সুজনকে শোকজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. আলী এহসান বলেন, এর আগেও ইপিআই সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান সুজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলাম এবং পাবনা সিভিল সার্জনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সংশোধন না হয়ে গোপনে এই ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এজন্য তাকে শোকজ করে অন্য একজনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে অভিযুক্ত সুজনের বিরুদ্ধে এক ডোজ ভ্যাকসিন ভেঙে চারজনকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইপিআই সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান সুজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
