বিদেশে শিক্ষার্থীদের খন্ডকালীন কাজ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৬ এএম

দেশ থেকে যারা বিদেশে পড়তে যান তাদের অধিকাংশেরই দরকার পড়ে খ-কালীন চাকরি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, আবাসন খরচ মিটিয়ে কেনাকাটা করা, ঘুরতে যাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতার জন্য সবাই চাকরি খোঁজেন। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ সম্পর্কে দেশ ভেদে বিভিন্ন আইন রয়েছে। তাই চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সেগুলো জেনে নিতে হবে। অধ্যয়নরত দেশের শিক্ষা আইন কেমন, কাজ করার অনুমতি আছে কি না, ভিসার ধরন অনুযায়ী কত ঘণ্টা কাজ করা যায় ইত্যাদি। এ জন্য এমন চাকরি বেছে নিতে হবে যা শিক্ষার্থীর জীবনধারার সঙ্গে মানানসই হবে, স্থানীয় ভাষা দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করবে, নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে, অভিজ্ঞতা এবং উন্মুক্ত ভবিষ্যতের সুযোগ অফার করবে। আপনার স্টুডেন্ট ভিসায় ছুটি চলাকালে কাজের সময়সীমায় বাধা না থাকলে গ্রীষ্মকালে ফুলটাইম কাজ করতে পারবেন। ক্লাস চলাকালে যেখানে পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেও চেষ্টা করা যেতে পারে।

যেসব চাকরি করতে পারবেন

অন-ক্যাম্পাস চাকরি

ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি। ক্যাম্পাসে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে রাইটিং সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, কম্পিউটার সেন্টারে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য স্টুডেন্ট ইউনিয়নেও কাজ করা যায়। এতে অন্যান্য ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ থাকে। অন-ক্যাম্পাসে কাজ করলে নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়, ভাষা দক্ষতা উন্নত করা যায় এবং মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। অন-ক্যাম্পাস কাজের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাজের জন্য আবেদনপত্র, সিভি, কভার লেটার ভালো করে লিখতে পারলে চাকরি পাওয়া সহজ হয়। 

রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও বার

শহরের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বারে অনেক সময় চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। এ ধরনের কর্মসংস্থানে প্রচুর জনবল প্রয়োজন পড়ে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ওয়েটার, বার স্টাফ বা রান্নার সহকারী হিসেবেও কাজ করা যায়। এ ধরনের চাকরির জন্য ভালো যোগাযোগ দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। অতীতের কাজের অভিজ্ঞতা আছে কি না খুব একটা দেখা হয় না। বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরি করাটা সহজ হয়। এই ধরনের চাকরি আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা, ভাষার দক্ষতা এবং নতুন পরিচিত জগৎ তৈরিতে সহায়তা করবে। এই ধরনের কাজে সময় ম্যানেজ করা সহজ হয়।

কল সেন্টার

যারা যোগাযোগপ্রবণ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভাষা ও কম্পিউটার দক্ষতায় আত্মবিশ্বাসী তাদের জন্য বেশ উপকারী। কল সেন্টারের চাকরিতে চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা ও ভাষা দক্ষতা তৈরি হয়। এ ধরনের কাজে চাপ বেড়ে যায়, কিন্তু কমিশন পাওয়ার সুবিধা থাকায় উপার্জন বেশি হয়। কাজ করার জন্য পণ্য, পরিষেবা ও কোম্পানি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হয়, যা প্রশিক্ষণ থেকে শিখে নিতে হবে।

কাস্টমার সার্ভিস

কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করলে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়। এ ধরনের কাজ বেশিরভাগ খ-কালীন হয় বিধায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় প্রভাব ফেলে না। শুরুতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বিধায় প্রথম চাকরি হলেও অসুবিধা কম হয়। সুবিধা অনুযায়ী কাজের সময় পরিবর্তন করতে পারবেন। এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞতা পাওয়ার পাশাপাশি দক্ষতার বিকাশ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির সময় এখানে ফুলটাইম কাজও করা যায়।

ইন্টার্নশিপ

পড়াশুনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে পারলে সুবিধা পাওয়া যায়। ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করলে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা দেয় ও অসংখ্য সুযোগ পাওয়া যায়। দেশের আইন ও অধ্যয়নের ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করে পড়ালেখা শেষে প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগও পাওয়া যায়। অনেক সময় ইন্টার্নশিপ থেকে কিছু আয়ও হতে পারে।

স্বেচ্ছাসেবক

অভিজ্ঞতা অর্জন করতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের কাজে যুক্ত হতে দেখা যায়। স্বেচ্ছাসেবী কাজের পরিসর বিস্তৃত হওয়ায় সুযোগ অফুরন্ত। ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের সিভি আকর্ষণীয় করে তুলতে এ ধরনের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা ভবিষ্যতে ভালো চাকরি পেতে সাহায্য করে। বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজের সন্ধান দিতে পারে, তবে এ ক্ষেত্রে অর্থ প্রদান করা হয় না। যেসব শিক্ষার্থী বিনা উপার্জনে সমাজসেবামূলক কাজ করতে চান তাদের জন্য এটি উন্মুক্ত। 

সিকিউরিটি গার্ড

বিদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করা অনেক দেশে সম্ভব। ছাত্র ভিসায় সাধারণত নির্দিষ্ট সময় (যেমন : সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা) কাজের অনুমতি থাকে। কিছু দেশে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতে আলাদা লাইসেন্স বা পারমিট প্রয়োজন হয়। শিক্ষাথীর ন্যূনতম এসএসসি বা সমমানের সনদ লাগতে পারে। ইংরেজি বা স্থানীয় ভাষায় যোগাযোগ করার সক্ষমতা দরকার। বিশেষ ট্রেনিং ও লাইসেন্সও দরকার হয়। যুক্তরাজ্যে ঝওঅ (Security Industry Authority) লাইসেন্স প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ায় ‘Security License’ আবশ্যক। কানাডায় ‘Security Guard License’ নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা যেসব জায়গায় কাজ পেতে পারেন তাহলো বিশ্ববিদ্যালয় বা হোস্টেলে নিরাপত্তা, শপিংমল, অফিস, রেস্টুরেন্ট,কনসার্ট, ইভেন্ট বা পার্টটাইম সিকিউরিটি। পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু আয়ের সুযোগ। নিরাপদ পরিবেশে কাজ করলে ঝুঁকি কম। অনেক দেশে ঘণ্টাপ্রতি বেতন তুলনামূলক ভালো থাকে।

 লেখক : ফিচার রাইটার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত