খুলনায় নবজাতক চুরি: অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন শাহজাদী ও তার মা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম

খুলনায় ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার সেই প্রসূতি মা শাহজাদী এবং তার মা নার্গিস বেগমকে জামিন দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ হোসেন হায়দার জরুরি শুনানি শেষে বিশেষ বিবেচনায় ও বিনা বন্ডে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর দায়রা জজ বিশেষ বিবেচনায় জরুরি শুনানি শেষে আসামিদের জামিন দিয়েছেন। তবে, আসামিদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় বিনা বন্ডে তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি কিভাবে নিষ্পত্তি করা যায়, সেটি নিয়ে আদালতসহ সবার পরামর্শ প্রয়োজন। মামলার শুনানি ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল। কিন্তু শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে, সে জন্য আদালত শুনানির দিন পরিবর্তন করে আগামী ২০ অক্টোবর ধার্য করেছেন। 

খুলনা কারা কর্তৃপক্ষের জেলার মোহাম্মাদ মুনীর হোসাইন জানান, জামিনের কপি আসার পর দুপুরপৌঁনে ২টায় শাহজাদীর মা নার্গিস বেগমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া দুপুর পৌঁনে ৩টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শাহজাদীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে গত রবিবার পুলিশের হেফাজতে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন শাহজাদীকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলনা থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) শাহীন কবির নবজাতক কন্যাসহ শাহজাদীকে আদালতে হাজির করেন। কিন্তু শাহজাদীর পক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ না নেওয়ায় জামিনের শুনানি হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঐদিন কারাগারে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহজাদী। রাতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে কারা কর্তৃপক্ষ নবজাতকসহ শাহজাদীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের প্রিজনসেলে পাঠায়। গত সোমবার শাহজাদীর পক্ষে জামিন ধরা হলে জামিন না মঞ্জুর করা হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর দায়রা জজ বিশেষ বিবেচনায় জরুরি শুনানি শেষে শাহজাদী ও মা নার্গিস বেগমকে জামিন দেন। 

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর একটি ক্লিনিকে সিরাজুল ইসলাম ও শাহজাদী দম্পতির কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যাশিশু। এর আগে আরো চার মেয়ের জন্ম দেন শাহজাদী। এবার ছেলে সন্তান হবে-সেই প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। ছেলে সন্তানের জন্ম না হওয়ায় প্রসূতি স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে চলে যান সিরাজুল। পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতাল থেকে আরেক প্রসূতির চার দিন বয়সী নবজাতক ছেলেকে চুরি করেন শাহজাদী ও তার মা নার্গিস বেগম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত