গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া নৌযান লক্ষ্য করে হামলা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:০৮ পিএম

গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীদের বহনকারী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আয়োজকদের দাবি, গ্রীস উপকূলে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ড্রোন হামলা, বিস্ফোরণ ও যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

তাদের ভাষ্য, একাধিক ড্রোন জাহাজের ওপর অজানা বস্তু ফেলেছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং জাহাজগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ব্রাজিলিয়ান আয়োজক টিয়াগো আভিলা ইনস্টাগ্রামে জানান, রাতভর ১০ বার হামলা চালানো হয়। সাউন্ড বোমা, ফ্লেয়ার ছাড়াও সন্দেহভাজন রাসায়নিক ছোড়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী গ্রেগ স্টোকার বলেন, তাঁর জাহাজেও একটি কোয়াডকপ্টার বিস্ফোরক ফেলে। আরও কয়েকটি জাহাজ একইভাবে আক্রান্ত হয়। তিনি জানান, তাদের রেডিও দখল করে প্রতিপক্ষ আব্বা ব্যান্ডের গান বাজাতে শুরু করে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স-এ পোস্ট করে দাবি করেছিল, ফ্লোটিলার সদস্যরা ‘হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত’ এবং তারা গাজার মানুষের জন্য নয়, বরং হামাসের স্বার্থে কাজ করছে।

ইসরায়েল প্রস্তাব দিয়েছে, ফ্লোটিলায় থাকা ত্রাণ আশকলন মারিনার মাধ্যমে তাদের হাতে তুলে দিলে শান্তিপূর্ণভাবে গাজায় পাঠানো হবে। কিন্তু আয়োজকরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আভিলা বলেন, ‘যারা দখলদারিত্ব করছে এবং গণহত্যা চালাচ্ছে, তাদের ওপর ভরসা করা যায় না যে তারা ত্রাণ পৌঁছে দেবে।’

৫১টি জাহাজ নিয়ে তৈরি এই ফ্লোটিলা পশ্চিম ভূমধ্যসাগর থেকে চলতি মাসের শুরুতে যাত্রা শুরু করে। এর আগেও টিউনিশিয়ায় অবস্থানকালে দুটি সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।

এই অভিযানে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী ও ত্রাণকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, তাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণভাবে গাজার মানবিক সংকট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।

উল্লেখ্য, এর আগে জুন ও জুলাই মাসে গাজায় পৌঁছানোর আরও দুটি চেষ্টা আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত