প্রবাসীদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ভোটের প্রায় ২৪ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে পৌঁছায় না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, এবার প্রবাসী ভোটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যালট পৌঁছানো ও ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা। গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালটের দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আরেকটি হলো আদালতের আদেশে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন হলে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ভোট বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী ডাকযোগে ব্যালট পৌঁছার ব্যর্থতার হার প্রায় ২৪ শতাংশ। আমরা চাই প্রবাসীরা শুধু আজ নয়, আগামীতেও আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
এবার প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী প্রবাসী ভোটের ছয়টি প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ইন-পারসন ভোটিং ও পোস্টাল ব্যালট। অনলাইন ভোটিং এখনো সীমিত মাত্রায় প্রচলিত। মাত্র দুটি দেশ সম্পূর্ণভাবে অনলাইন ভোটিং চালু করেছে। প্রক্সি ভোটিং, মোবাইল পোস্টাল ব্যালট ও ফ্যাক্স ভোটিংও কিছু দেশে চালু আছে। বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছিল পোস্টাল ব্যালট, প্রক্সি ভোটিং এবং অনলাইন ভোটিং তবে আপাতত অনলাইন ভোটিং সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রক্সি ভোটের তেমন সমর্থন না থাকায় সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে।’
পোস্টাল ব্যালটের গ্লোবাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের হার মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এর মধ্যে ভোট সংগ্রহের হার ৩০ শতাংশের নিচে। তবুও বাংলাদেশের প্রবাসীরা অন্যদের তুলনায় বেশি আগ্রহী।
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদেরও প্রত্যাশা সীমিত রাখতে হবে, তবে আমরা ব্যর্থ হব না।
তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালটে থাকবে প্রার্থীর প্রতীক। প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটাররা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা দেখতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন। পরে তিনি ব্যালট ফেরত পাঠাবেন। এবারের ভোটে প্রবাসীদের কোনো চার্জ দিতে হবে না। যদিও প্রতিটি ভোটে সরকারের খরচ হবে প্রায় ৭০০ টাকা।
নিবন্ধন প্রসঙ্গে ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দুটি ধাপে কাজ হবে। প্রথমে ভোটার নিবন্ধন যারা ইতিমধ্যে এনআইডি কার্ডধারী, তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন। এরপর আউট অব কান্ট্রি ভোটিংয়ের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হবে। প্রতিটি অঞ্চলে ৭-১০ দিন সময় দেওয়া হবে নিবন্ধনের জন্য, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ৩-৭ দিন সময় রাখা হবে।
