দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক টিআইবি সমঝোতা সই

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:০৪ এএম

দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত কার্যক্রমকে বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে দুদকের পক্ষে মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন ও টিআইবির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুদক ও টিআইবি দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা, পদ্ধতিগত উৎকর্ষ এবং নৈতিকতার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, জনসম্পৃক্ততা, অধিপরামর্শ ও প্রচারাভিযান পরিচালনার পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগে গবেষণা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ, সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীমসহ দুদক ও টিআইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে স্বাধীন এবং আদর্শ দুদক প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। দুদক সংস্কারের ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রতিবন্ধকতা নেই। আমরা সংস্কারে যে সুপারিশগুলো জমা দিয়েছি, তার দুটি দিক রয়েছে। একটা দিক হচ্ছে সরকারের সিদ্ধান্তক্রমে সুপারিশ বাস্তবায়ন, কিছু সুপারিশ আছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য দরকার। সেগুলো নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সুখবর হচ্ছে দুই-একটি ছাড়া সবগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য পোষণ করেছে। তবে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বড় দল, যারা নিজেদের ক্ষমতায় যাবেন বলে ভাবছেন তারা কিছু কিছু নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলো বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিচ্ছি।

তিনি বলেন, দুদককে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সরকারের আওতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ, এই দুটি বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। এই দুটি নিয়ে কতটুকু অগ্রগতি হলো সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা আপাতত দিতে পারছি না। এটুকু বলতে পারি সংস্কার কমিশনের যে ৪৭টি সুপারিশ রয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আদর্শ ও স্বাধীন দুদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তবে নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে কি না সেটার ওপর। ওটা না হলে যতই আইন পরিবর্তন হোক না কেন, বাস্তবে কার্যকর হবে না।

দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত কার্যক্রম বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে দুদক টিআইবি পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চম দফায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় যে কাজগুলো হবে তার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি সংক্রান্ত যৌথ গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা। দুর্নীতিবিষয়ক গবেষণা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়নে দুদক ও টিআইবির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে গণশুনানি কার্যক্রম সম্পর্কে দুপক্ষ মিলে পর্যালোচনামূলক এবং কাজটা ফলপ্রসূ হচ্ছে কি না সে বিষয়ে কাজ করা। গবেষণা, প্রচারণা, জনসম্পৃক্ততা এই কাজগুলো অব্যাহত রাখব। এ ছাড়া প্রতিরোধমূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেই কাজগুলো অব্যাহত রাখব এমন আলোচনা হয়েছে। দুদক যেসব গণশুনানি করে অন্তত ছয়টি গণশুনানি দুদক ও টিআইবি যৌথভাবে তাদের অর্থায়নে করবে। এ ছাড়া দুর্নীতির সংক্রান্ত যেসব দিবস পালন করা হয়ে থাকে, সেগুলো যৌথভাবে পরিচালনা করবে।

জানা গেছে, এটি দুদক ও টিআইবির মধ্যে পঞ্চম সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সই। এর আগে ২০১৫ সালের ২৫ মে দুবছর মেয়াদি; ২০১৭ সালের ৫ জুন দুবছর চার মাস মেয়াদি, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তিন বছর মেয়াদি এবং ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চম দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত