জোহরের নামাজে ফরজ শেষে সুন্নত না পড়ায় এক মাদ্রাসা ছাত্রকে মুখে টুপি গুজে করা হয়েছে বেধড়ক মারধর। এ সময় লাঠি দিয়ে মুখে টুপি গলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। এতে মাদ্রাসা ছাত্রের মুখের তালু কয়েক স্থানে ছিলে যায়। তবুও ক্ষান্ত না হয়ে কয়েকজন ছাত্র ওই ছাত্রের দুই হাত ধরে থাকেন আর হুজুর দুই হাত, ঘাড়, গলাসহ কোমরের নিচে করেন বেধড়ক মারধর। কোনমতে পালিয়ে বাঁচতে চাইলেও আবারও ভুক্তভোগীকে মারধরের জন্য হুজুরের সামনে এনে দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ওই ছাত্র। গত বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের লিচুতলা এলাকার আত-তাক্বওয়া ওয়াস্সুন্নাহ হিফজ্ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে উঠেছে এমন গুরুতর অভিযোগ। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর থানায় আসাদুজ্জামান আসাদসহ তিন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই মাদ্রাসা ছাত্রের বাবা বেলাল হোসেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির হোসেন নাসির (১২)। তার বাড়ি সদর উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া এলাকায়। স্বর্ণকার বেলাল হোসেন ও গৃহিণী ইয়াসমিন আক্তারের একমাত্র ছেলে নাসির। সে মাদ্রাসাটিতে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে।
জানা গেছে, গত তিন মাস আগে মাদ্রাসাটিতে হেফজ বিভাগে ভর্তি হয় নাসির। ভর্তির কিছুদিন পরেই একবার মারধরের শিকার হয় সে। সেসময় বাড়িতে চলে গেলেও ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানাতে হবে এমন দৃঢ়চিত্তে আবারও মাদ্রাসাতে ফিরিয়ে দিয়ে যায় পরিবার। তবে এবারের মারধর যে অন্য সময়কে ছাড়িয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্র সাব্বির হোসেন নাসির জানায়, আমি সুন্নত নামাজ না পড়ায় আসাদ হুজুর আমাকে মারধর শুরু করেন। আমি চিৎকার করলে আমার মুখে টুপি গুজে দিয়ে মারতে থাকেন। কয়েক ছাত্র হাত ধরে থাকে আর তিনি আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারতে থাকেন। যেভাবে আমার মুখে টুপি গুজে দিয়েছে আরেকটু হলে আমি মরেই যেতাম। আমার গলা দিয়ে রক্ত বের হয়ে গেছে।
বাবা বেলাল হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে এর আগেও নির্যাতন করা হয়েছে। ওইদিন যেভাবে মুখে টুপি গুজে দিয়ে মারধর করা হয়েছে তা বর্ণনা করার মতো নয়। কোনো সুস্থ মানুষ একটা শিশুটিকে এভাবে মারধর করতে পারে না। আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলতে চেয়েছিল। ও কোনোমতে পালিয়ে বেঁচে গেছে। এখন আবার আসাদ হুজুর আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রহিমুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে সে হাসপাতালেই ভর্তি আছে। আমরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি। পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
