ফ্লোটিলা সহায়তায় স্পেন-ইতালির নৌ অভিযানের কারণ কী?

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৬ এএম

গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে আন্তর্জাতিক সুমুদ ফ্লোটিলাকে সহায়তা করার জন্য স্পেন ও ইতালি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভূমধ্যসাগরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনপন্থী এই ফ্লোটিলার ওপর গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় জাহাজের ক্রু সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। বিস্তৃতভাবে বিশ্বাস করা হচ্ছে, এই হামলার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফ্লোটিলার যাত্রার শুরু থেকেই ইসরায়েলের বিরোধিতা তীব্র। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভি ফ্লোটিলার কর্মীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফ্লোটিলাকে বারবার অনুরোধ করেছে তাদের ত্রাণসামগ্রী ইসরায়েলের ভূখণ্ডে খালাস করতে, যা ফ্লোটিলা ‘জিহাদি উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ঝুঁকি কতটা?

গাজার কাছে পৌঁছার পর থেকে সুমুদ ফ্লোটিলা যে কোনো সময় ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা তাদের নৌ অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজকে ‘যুদ্ধ-অঞ্চলে প্রবেশ করতে দেবে না।’

এর আগে এই বছরের তিনটি মানবিক ত্রাণ প্রচেষ্টা ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মে মাসে ‘দ্য কনসায়েন্স’ জাহাজে ড্রোন হামলা হয়। জুনে ‘মাদলিন’ এবং জুলাইয়ে ‘হান্ডালা’ নামের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর বাধায় আটক হয়।

স্পেন ও ইতালির অবস্থান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘স্পেন সরকার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং ভূমধ্যসাগরে তাদের নাগরিকদের নিরাপদ চলাচলের অধিকারকে সম্মান করার দাবি জানাচ্ছে।’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ফ্লোটিলার মিশনকে ‘অপ্রয়োজনীয়, বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেট্টো সংসদে বলেন, নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানো ‘মানবতার কাজ’ এবং এটি কোনো যুদ্ধ বা উস্কানির উদ্যোগ নয়।

গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর স্পেন ও ইতালিতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন জোরদার হয়েছে। ইতালিতে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বন্দর অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, স্পেনে সরকারি সমর্থনের সঙ্গে জনমত মিলে যায়। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের বিরোধ জানিয়েছেন।

ইতালি প্রথমে ‘ভার্জিনিও ফাসান’ ফ্রিগেট পাঠায়, পরে ‘আলপিনো’ নামের জাহাজ পাঠানো হয়। স্পেন ‘ফুরর’ নামে একটি টহল জাহাজ পাঠিয়েছে। এই জাহাজগুলো শুধুমাত্র ফ্লোটিলাকে সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য, ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশ নয়।

ফ্লোটিলা মানবিক ত্রাণ বিতরণের জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত। জেনেভা কনভেনশন ও ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের অস্থায়ী আদেশ অনুযায়ী, ফ্লোটিলার ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে। এছাড়াও সমুদ্র আইন কনভেনশন চলাচলের স্বাধীনতা ও নীরীহ নৌযানের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

স্পেন ও ইতালির নৌবাহিনী ফ্লোটিলাকে সুরক্ষা ও সমর্থন দিতে পারে, তবে সীমাবদ্ধ আইন মেনে কাজ করতে হবে এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশের অধিকার নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত