সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ছয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলের ভেতরে বসেছিলেন। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস এ তথ্য জানায়।
প্রেস উইং জানায়, ড. ইউনূস এবং তার প্রতিনিধিদলের বসে থাকা ছবিটি ইউএনজিএর ৮০তম অধিবেশনে তার (ড. ইউনূস) নিজের ভাষণ দেওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে তোলা হয়েছিল। এটি মূলত বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়েছিল।
‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে তার বক্তব্য দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন’ বলে প্রেস উইং ফ্যাক্টস উল্লেখ করে।
প্রেস উইং আরও জানায়, এদিকে, নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অনেক দেশের শতাধিক কূটনীতিক গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং গণহত্যার প্রতিবাদে চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলও চেম্বার ত্যাগ করে। অন্য কথায়, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় তারা উপস্থিত ছিলেন না। এএফপি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত ছবিগুলো এটি নিশ্চিত করে, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশের নেমপ্লেটের আসনটি খালি ছিল।
প্রেস উইং জানায়, তাই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ছয় রাজনৈতিক প্রতিনিধির যে ছবি প্রচারিত হচ্ছে, তা নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ছবিটির অপব্যবহার করে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করেনি। যাচাইকৃত প্রমাণ থেকে জানা যায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় তারা চেম্বারে উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল, এমন প্রচারণা পতিত শক্তির অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়। ‘মিথ্যাই এখন তাদের একমাত্র অবলম্বন।’
উপ-প্রেস সেক্রেটারি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার দুটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। প্রথম কর্মসূচি ছিল বিভিন্ন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম নিজামী গাঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, যা সকাল ৯টায় হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় কর্মসূচি ছিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, যা অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সকাল সাড়ে ১০টায়।’
তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি শেষে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল যখন সাধারণ পরিষদের হলরুমে প্রবেশ করে, তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেন্ট ভিনসেন্টের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনজালভেস। এর আগে ইসরায়েল, পাকিস্তান ও চীনের প্রধানমন্ত্রীরা তাদের বক্তব্য শেষ করেন।’
