বাঁচানো গেল না ফায়ার ইন্সপেক্টর নাঈমকেও

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকা-ের ঘটনায় দগ্ধ ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খন্দকার জান্নাতুল নাঈম (৩৫) মারা গেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান তিনি। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, নাইমের শরীরের ৪২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারজন দগ্ধ হয়েছিলেন। যাদের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সর্বশেষ দেশের তরে আত্মত্যাগ করলেন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর জান্নাতুল নাঈম। এ ছাড়া এ ঘটনায় মারা গেছেন দোকান কর্মচারী আলআমিন হোসেন বাবু। তবে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনার ছয় দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহিদুল হাসান বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই মামলা হবে।

খন্দকার জান্নাতুল নাঈমের স্বজনরা জানান, নাঈম ২৪ আগস্ট ১৯৮৮ সালে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের খন্দকার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম খন্দকার মোজাম্মেল হক। মোল্লারটেক উদয়ন বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি ও ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন নাঈম। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তিনি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে স্টেশন অফিসার হিসেবে মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে চট্টগ্রাম ও সর্বশেষ টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। এক সন্তানের জনক ছিলেন নাঈম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত