'ট্রফি নিয়ে পালিয়ে গেল ওরা,' বললেন এশিয়া কাপ জয়ী ভারত অধিনায়ক

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম

দুবাইয়ে রবিবার অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতলেও ভারতীয় দলকে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ট্রফি পাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছাড়াই উদযাপন সারে সূর্যকুমার যাদবের দল।

'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে' গণমাধ্যম দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার বলেছেন, 'ট্রফি লেকে ভাগ গয়ে ওহ (ট্রফি নিয়ে পালিয়ে গেল ওরা)। আমরা তো ড্রেসিংরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বসে ছিলাম না। প্রেজেন্টেশনের জন্য কাউকে অপেক্ষায়ও রাখিনি। আমি শুধু দেখলাম ওরা ট্রফি নিয়ে চলে গেল।'

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি না হওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। গুঞ্জন উঠেছিল, বিসিসিআই বা সরকারের নির্দেশে নাকি এমনটা করেছে ভারতীয় দল। তবে সূর্যকুমার এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, 'পুরো টুর্নামেন্টে সরকার বা বোর্ড থেকে আমাদের কিছু বলা হয়নি। আমরা নিজেরাই মাঠে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ওরা মঞ্চে ছিল, আমরা নীচে। হঠাৎই দেখলাম তাদের প্রতিনিধি ট্রফি নিয়ে চলে যাচ্ছে। তখনই দর্শকদের অনেকে 'দুয়ো' দিচ্ছিল।”
অধিনায়ক জানান, খেলোয়াড়রা ম্যাচের পরও মাঠেই ছিলেন, ড্রেসিংরুমে ঢুকে এমনকি ফোনও নেননি। 'আমাদের সাপোর্ট স্টাফ আর ম্যাসেজ থেরাপিস্ট ফোনগুলো মাঠে এনে দিয়েছিল। সবাই মাঠেই আনন্দ করছিল। যারা পুরস্কার জিতেছে—অভিষেক শর্মা, কুলদীপ যাদব, শিভম দুবে, তিলক ভার্মা—তাদের জন্য পুরো দল হাততালি দিয়েছে, হুইসেল দিয়েছে। এটাই আমাদের দলের সংস্কৃতি।'

সাক্ষাৎকারের চম্বুক অংশ তুলে ধরা হলো

আপনি বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান আর কোনো প্রতিযোগিতা না। ফাইনালটা এত ক্লোজ হবার পর কি কখনও মনে হয়েছে—‘এমন কথা কেন বললাম’?

সূর্যকুমার: না, যদি ফাইনাল হয়, সেটা ক্লোজই হবে। ফাইনাল মানেই আলাদা উপলক্ষ্য। অনেকে বলেন—এটা আরেকটা ম্যাচ মাত্র। কিন্তু ফাইনাল মানে ফাইনালই। এটা নকআউট খেলা, এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। চাপ তো থাকেই। তবে আমার মনে একবারও আসেনি যে আমি ভুল কিছু বলেছি। আমি যখন আমার দলকে দেখি—তাদের অনুশীলন, ম্যাচে খেলা—তখন বুঝতে পারি ওদের দক্ষতা কেমন, আর কোনো পরিস্থিতিতে তারা কেমন খেলতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই আমি ওই মন্তব্য করেছিলাম।

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেননি আপনি। আপনি তো খুবই বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, সবার সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করেন। কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেন হ্যান্ডশেক না করে? 

সূর্যকুমার: এটা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপার নয়। দেশের সঙ্গে থাকা জরুরি। আমি আগেও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম—জীবনে কিছু বিষয় খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার চেয়েও বড়। এটা ছিল তেমনই একটি মুহূর্ত। এখানে অবস্থান নেওয়া খুব জরুরি ছিল।

আপনার দলও ওই ম্যাচের পর হাত মেলেনি। দলের ভেতরে কী ধরনের পরিবেশ ছিল?

সূর্যকুমার: সবাই একইভাবে ভেবেছিল (যে হাত মেলানো হবে না)। সূর্যও তাই ভেবেছিল। পুরো দল এবং সাপোর্ট স্টাফও একমত ছিল। একবার যদি আমরা অবস্থান নিই, তাহলে সেটা থেকে সরে আসব না।

তিন ম্যাচে একবারও পাকিস্তান অধিনায়কের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেননি সূর্যকুমার

আপনি কি মনে করেন, হাত না মেলানোর একটা নতুন ধারা আপনি শুরু করলেন?

সূর্যকুমার: আমি জানি না সামনে কী হবে। “দিল্লি অভি বহুত দূর হ্যায়”—এখনও অনেক বাকি। পাকিস্তানের সঙ্গে পরের ম্যাচে কী হবে তা জানি না। যেহেতু আমরা কেবল বহু-জাতিক টুর্নামেন্টেই খেলি, তাই যখন সেই পরিস্থিতি আসবে, তখন দেখা যাবে। আপাতত আমরা এই মুহূর্তটাকেই উপভোগ করতে চাই।

হাত না মেলানোর পর প্রথম ম্যাচের পর আপনার ও দলের ওপর কি চাপ বেড়ে গিয়েছিল?

সূর্যকুমার: না, তেমন কোনো টেনশন ছিল না। আমরা ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম, আর ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ফলাফল সবার সামনেই আছে। যদি অন্য কিছুর মধ্যে, অর্থহীন ঝামেলায় জড়িয়ে যেতাম, তাহলে আমাদের ফোকাস ক্রিকেট থেকে সরে যেত। সেটা হয়নি। আমরা ক্রিকেটেই মনোযোগী ছিলাম। চাপের পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, খেলোয়াড়রা শুধু জয়ের লক্ষ্যেই মনোযোগ রেখেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত