লিবিয়ায় বন্দি যুবক ৪৮ লাখ দিয়েও মুক্তি মেলেনি

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম

ইতালির স্বপ্নপূরণের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় বন্দি হয়েছেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পূর্ব মাজপাড়া এলাকার যুবক আসলাম কবিরাজ। দফায় দফায় দালালকে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান করেও মুক্তি পাননি তিনি। তার পরিবার এখন দালালের বিচার এবং সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের হুগলি এলাকায় অভিযুক্ত দালাল জামাল প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়ে আসলামের মা আসমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানের মুক্তির দাবি জানান। তবে জামাল প্রামাণিক বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছেন।

মামলার এজাহার এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের হুগলি গ্রামের মানব পাচারকারী দালাল জামাল প্রামাণিক ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আসলাম কবিরাজকে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আসলামের বাবা আব্দুল হালিম পরিবারের স্বপ্নপূরণের আশায় এ টাকা জামালের হাতে তুলে দেন। এরপর গত বছর ৩ জানুয়ারি জামালের মাধ্যমে আসলাম বাড়ি থেকে রওনা হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তার ওপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। আসলাম মাফিয়াদের হাতে বন্দি হন এবং দালাল জামাল তার পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় ৪৮ লাখ টাকা আদায় করেন। অসহায় পরিবারটি জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে এ টাকা জোগাড় করে দালালের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু ধারের টাকা শোধ করতে না পারায় পাওনাদাররা এখন পরিবারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সন্তানকে মুক্ত করতে পরিবার বারবার দালালের কাছে ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু ৪৮ লাখ টাকা নেওয়ার পরও জামাল আরও টাকা দাবি করছেন। নিরুপায় হয়ে আসলামের মা আসমা আক্তার মাদারীপুরের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

আসলামের মা আসমা বেগম বলেন, ‘জমিজমা বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে আমরা ৪৮ লাখ টাকা দালাল জামাল প্রামাণিকের হাতে দিয়েছি, যাতে আমার ছেলে ইতালি যেতে পারে। কিন্তু দুই বছর ধরে দালাল আমার সন্তানকে লিবিয়ায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করছে। আমরা যখনই আমার ছেলের খোঁজ জানতে চাই, তখনই সে আরও টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখায়। আমরা সরকারের কাছে এ দালালের সুষ্ঠু বিচার এবং আমার সন্তানকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা দাবি করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল জামালের বাড়িতে গিয়েছিলাম, কিন্তু ঘরে তালা দিয়ে সে পালিয়ে গেছে। ফোনও রিসিভ করছে না।’

দালাল জামাল প্রামাণিককে বাড়িতে না পাওয়া গেলেও তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এক দিন পর ফোন রিসিভ করে তিনি এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। জামাল বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নেইনি; বরং টাকা নিয়েছে মামুন নামে অন্য একজন, যার বাড়ি আলগীতে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়টি ইতিমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে এ দালাল উল্টো সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং চিৎকার করে বলতে থাকেন যে তিনি নেটের ব্যবসা করেন। একপর্যায়ে কথা শেষ না করেই ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ পর্যন্ত যত মামলা হয়েছে এবং যত ঘটনা সামনে এসেছে, আমরা প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। মামলা আমাদের কাছে এলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করি। অনেক সময় মামলাকারীরা পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করেন না, তবুও আমরা তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আমরা তদন্ত করছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত