সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজি ও মাছের দাম বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে ফলন নষ্ট হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি কেবল ‘বাহানা’, সুযোগ পেলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন।
সূত্রাপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাদ্দাম হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীরা কোনো একটা বাহানা পেলেই সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেন। যেন তারা অপেক্ষায় থাকেন নতুন কোনো ইস্যু তৈরির। আর সেই সুযোগে নিজেদের পকেট ভারী করে নেন। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সুযোগসন্ধানী। তারা কেয়ামতের কথা আগে জানতে পারলে মনে হয়, কাফনের কাপড়ের দামটাও বাড়িয়ে দেবেন।’
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু (২৫–৩০ টাকা) ও কাঁচা পেঁপে (২০–২৫ টাকা) ছাড়া প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—গত সপ্তাহে ২০০–২২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। লালশাকের আঁটি ৩০ টাকা, পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও ধুন্দল ৬০–৭০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ১২০–১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গেন্ডারিয়ার বিক্রেতা হোসেন আলী জানান, পাইকারি বাজারে মরিচের সংকট তৈরি হয়েছে। বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয়েছে, আবার ভারত থেকেও মরিচ আমদানি বন্ধ। ফলে পাঁচ কেজি মরিচ কিনতে হচ্ছে ১২০০–১৩০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৮০০–৯০০ টাকা।
সবজি ছাড়াও মাছের বাজারেও আগুন। আগামীকাল ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারে দামে চড়া ঢেউ উঠেছে। বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি ইলিশ ২ হাজার এবং ছোট ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। চাষের মাছের দামও বেড়েছে কেজিতে ৫০–১০০ টাকা। রুই ৪০০–৫৫০, কাতলা ৩৫০–৪২০, চাষের শিং ৩৫০–৫৫০, দেশি শিং ১ হাজার–১ হাজার ২০০, চিংড়ি ৮০০–১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ধূপখোলা বাজারে মাছ কিনতে আসা সুমন বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে ইলিশের দাম কম ছিল। কিন্তু এ বছর আকারে একটু বড় ইলিশ দামের কারণে কিনে খেতে পারিনি। চাষের অন্যান্য মাছের দামও কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে চাষের মাছও কিনে খেতে পারব না কিছুদিন পর।’
মাংস-মুরগির বাজারেও চড়া দাম বহাল। ব্রয়লার মুরগি ১৮০–১৯০, সোনালি ৩০০–৩৩০, দেশি মুরগি ৬০০–৬৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০–৮০০, খাসি ১১০০–১২০০, বকরি ৯০০–১ হাজার, দেশি হাঁস ৬০০–৬৫০, রাজহাঁস ১ হাজার ৬০০–২ হাজার এবং চায়না হাঁস ১ হাজার ২০০–১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আমাদের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। সরকার পতনের পর চাঁদাবাজি কিছুটা কমেছিল। কিন্তু সেটা আবার সক্রিয় হয়েছে। বাজার তদারক সংস্থাগুলোর তদারকি আরও বাড়ানো উচিত।’
গাজার উদ্দেশে ছুটছে ফ্লোটিলার শেষ জাহাজ ‘দ্য ম্যারিনেট’