মাছ চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের মৎস্য চাষিরা। দেশের শতকরা ২২ ভাগ মাছ উৎপাদন হয় ময়মনসিংহ জেলায়। আর এর সিংহ ভাগই উৎপাদন হয় ত্রিশালে।
উপজেলায় মাছের মোট উপপাদন ৮৫ হাজার ১২২ মেট্রিক টন, উপজেলায় মাছের চাহিদা ৮ হাজার ২২০ মেট্রিক টন এবং উপজেলায় মাছ উদ্বৃত্ত ৭৬ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন। উপজেলায় সরকারি পুকুরের সংখ্যা ৫টি যার আয়তন ১৩৪ হেক্টর, বেসরকারি পুকুরের সংখ্যা ২৪ হাজার ৪৯৮টি যার আয়তন ৩ হাজার ১২৫ হেক্টর।
উপজেলায় ধান, সবজি চষের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চলছে মাছ চাষ। মাছ চাষিদের অভিযোগ দালালদের কারণে তারা দামে কিছুটা কম পাচ্ছেন। তাছাড়া বিদেশে সরাসরি মাছ রপ্তানি প্রক্রিয়া না থাকায় তারা আর্থিক ভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে বিদেশে মাছ রপ্তানির জন্য ভার্গো ও সেভেন ওসান দুটি বেসকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে বর্তমানে সেভেন ওসানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
পৌর শহরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও পাঙ্গাশ মাছের মৎস্য আড়তে প্রতিদিন টনকে টন মাছ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে এই মাছগুলো।
দেশীয় প্রজাতির মাছের দয়াল নবী মৎস্য আড়তের প্রোপাইটার আবুল মুনসুর জানান, এ মৎস্য আড়ত থেকে প্রতিদিন ১৫-২০ টন মাছ বিক্রি হচ্ছে যার আনুমানিক মূল্য ১৫-২০ লাখ টাকা। অপর দিকে পাঙ্গাশ মৎস্য আড়তের প্রগতি ফিস কমিশন এজেন্টের প্রোপাইটর তাজুল ইসলাম গং জানান, এ আড়ত থেকে ৮০ থেকে ৯০ টন মাছ বিক্রি হচ্ছে যার আনুমানিক মূল্য ৬৫-৭৩ লাখ টাকা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামের মাহাবুব মৎস্য হ্যাচারি এন্ড ফিসারিজের প্রোপাইটর খাইরুল বাসার মাহাবুব জানান, আমার হ্যাচারিতে শিং, পাবদা, গুলশা, টেংরা, মাগুর ও দেশীয় প্রজাতির সকল প্রকার রেণু ও পোনা বিক্রয় করা হয়। রেণু ও পোনার গুনগত মান ভালো হওয়ায় ত্রিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাষিরা আমার হ্যাচারি থেকে রেণু ও পোনা ক্রয় করে নিয়ে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মৎস্য চাষি আশিক আহমেদ জানান, মৎস্য খাদ্যের দাম দিনদিন বৃদ্ধির ফলে মাছ চাষে বর্তমানে কৃষকের লাভের পরিমাণ কম হচ্ছে। সরকার যদি মৎস্য খাদ্যের দাম নির্ধারণ করে দেন তবে মৎস্য চষিরা লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া সরকার যদি মৎস্য ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন তবে প্রান্তিক চাষিদের মৎস্য চাষিরা মাছ চাষে আরও উৎসাহী হবেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য দপ্তরের সাবেক মৎস্য কর্মকর্তা ও মাগুরা জেলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, মাছ চাষে ত্রিশাল একটি মডেল উপজেলা। উপজেলা মৎস্য অফিসারদের সঠিক তদারকির কারণে ত্রিশালে মাছ চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ত্রিশাল মৎস্য অফিস থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ত্রিশাল থেকে মাছ সরাসরি এবং পাইকার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।
