ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনার স্থবিরতা এবং নির্বাচনী কারচুপি সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি উত্তাল হয়ে উঠেছে। শনিবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশের চেষ্টা চালায়, যা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্ম দেয়।
নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান এবং পিপার স্প্রে ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং অনেককে আটক করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রবিবার (৫ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শাসক দল জর্জিয়ান ড্রিম জয় দাবি করার পর থেকেই দেশটি রাজনৈতিক অচলাবস্থায় রয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে শাসকদল ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এরপর থেকে সরকার ইইউ-তে যোগদানের আলোচনাকে স্থগিত রেখেছে।
স্থানীয় নির্বাচনের দিনেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। সরকারের নীতির বিরোধিতা করে অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব দিয়েছেন অপেরা গায়ক পাতা বুড়চুলাদজে, যিনি আগেই শাসক দলের ছয়জন শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা শহরের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেন, হাতে জর্জিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা। বুড়চুলাদজে এক ঘোষণায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জর্জিয়ান ড্রিম দলের ছয়জন শীর্ষ নেতাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় দাঙ্গা পুলিশ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে।
গত কয়েক মাস ধরে সরকার বিরোধী কর্মী, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং পশ্চিমাপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর দমননীতি জোরদার করেছে। অধিকাংশ বিরোধী নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
২১ বছর বয়সী ইয়া বিক্ষোভে যোগ দেন কালো পোশাক, হেলমেট এবং গ্যাসমাস্ক পরে। তিনি জানান, ‘রঙিন কিছু পরলে সহজেই আমাদের চেনা যাবে, আর চেনা গেলে জেলে যেতে হবে।’ রুস্তাভেলি এভিনিউতে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নজরদারি ক্যামেরা এই নজরদারির অংশ।
সরকার বলছে, রাস্তা অবরোধের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ায় শত শত বিক্ষোভকারীকে ৫ হাজার জর্জিয়ান লারি (প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।
ইয়া বলেন, ‘আমি চাই জর্জিয়ান ড্রিম সরিয়ে যাক। আমরা দেশটাকে ফিরে পেতে চাই। আমার বন্ধুরা যারা অবৈধভাবে জেলে রয়েছে, তাদের মুক্তি চাই।’
হাবিবুরসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে ৯মদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
হামাস শান্তির জন্য প্রস্তুত: এরদোয়ান
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক