চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বটতলী রুস্তমহাট বাজারের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারের রাস্তাঘাট ও গলিপথে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাজারের ব্যবসায়ী, ভোক্তাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি নিষ্কাশন ও ময়লা আবর্জনা অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ত এই বাজারের মধ্য দিয়ে গেছে শাহ্ মোহছেন আউলিয়া সড়ক। এই সড়কের কোনো পাশে নালা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সম্প্রতি মোহছেন আউলিয়ার মাজারের সামনে ও বাজারের মাঝখানে সড়কের ১১৪ মিটার অংশ দুই ফুট উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। এতে স্বর্ণগলির সামনের সড়কে পানি জমে থাকায় বিঘিœত হয় যান ও পথচারীদের চলাচল। এই সড়কে পানি জমে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি কমলেও রাস্তায় সব সময় পানি জমে থাকে। এদিকে কাঁচা বাজারে একটি নালা থাকলেও এটি ময়লা আবর্জনায় ঠাসা। ফলে এ নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না।
সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হয় এই পথে নিয়মিত চলাচলকারী ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। রাস্তার মধ্যে পানি জমে থাকার কারণে পথচারীদের উভয় পাশের দোকান ঘেঁষে আসা-যাওয়া করতে হয়। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রুস্তমহাটের পান বাজার, কাঁচা বাজার, পশুরহাট, বাসস্ট্যান্ড, পুরনো জিপ স্ট্যান্ড, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড এলাকা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। তখন নিচু জায়গার পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পানি ঢুকে যায়।
অটোরিকশাচালক শাহফাজ উদ্দিন জানান, জমে থাকা পানি গাড়ির চাকার আঘাতে ছিটকে যাত্রীদের গায়ে গিয়ে পড়ে। পানির কারণে গাড়ির ব্যাটারি, যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
রুস্তমহাটের ইজারাদার ফেরদৌস হোসেন বলেন, এই বাজারে কয়েকটি মার্কেটসহ ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১ হাজার ২১০টি দোকান রয়েছে। চলতি বাংলা সনে এক কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বাজারটি ইজারা নেওয়া হয়। তবে সে আনুযায়ী বাজারের উন্নয়ন হয়নি। বাজার সড়কে জলাবদ্ধতার জন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাজারের সমস্যাগুলো তুলে ধরে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, ‘বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে নালার ব্যবস্থা করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জায়গা পাওয়া গেলে নালা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
