আশ্বাসে স্থগিত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৭ এএম

সাত কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়নের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজ শিগগিরই শেষ করে অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তর শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে। এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের সদস্য মো. তানজিমুল আজিজ সচিবালয়ে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি তানজিমুল আজিজ বলেন, ‘আমরা প্রতিনিধিদল হিসেবে সচিবালয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে শিক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশের কাজ বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। এই পর্যায় শেষ হলেই অধ্যাদেশের পুরো কাজ সম্পন্ন হবে।’

এর আগে সকাল থেকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ দ্রুত চূড়ান্ত করে অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিকেল পর্যন্ত তারা শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেন, ফলে শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয়গামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পদযাত্রার পরিকল্পনা অনুযায়ী, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশে রওনা হন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নীলক্ষেত থেকে যাত্রা শুরু করে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হন। পরে দুপুরের দিকে পলাশী হয়ে বকশীবাজারে পৌঁছে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন। এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে সমবেত হন।

অবস্থান কর্মসূচির কারণে শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয়মুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যাতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর না হতে পারে, সেজন্য পুলিশ ওই সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন করে। পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পলাশী, আজিমপুর, বকশীবাজার, নীলক্ষেত ও শিক্ষা ভবন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া জলকামান ও সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের খসড়া সংশোধন করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি প্রদান, চলমান সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিনা শর্তে আত্তীকরণের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যাদেশে স্বীকৃতি দেওয়া, অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ফেল করানোর হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা।

শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু এখনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি। তারা দ্রুত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ জারির দাবি জানান।

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন রাস্তায় অবস্থান করছি, শুধু একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির আশায়। সাত কলেজকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আনার ঘোষণা অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা দূর করতে এখনই সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে পৃথক করে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রস্তাবিত নাম নির্ধারণ করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত